বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৫

আজিমপুর,বনানী বা নানান কবরে
কিম্বা শ্বশানে..........
যেখানে অবাঞ্চিত মৃতদেহের সৎকার
নইলে সেগুলো একসময় গন্ধ ছড়িয়ে
পরিবেশ দূষিত করবে
আমরা তাকে ধর্মানুসারে নাম দেই
তাকে নানান সুরা, প্রার্থনা আর মন্ত্র পড়ে
জীবনের খেলাঘর থেকে দূর করি
আসলে মরে গেলে সে শুধুই লাশ
অবাঞ্চিতের দলে
মানুষ থাকে প্রিয়জনের হৃদয়ে

আর রাজনীতিকের লাশ হয়
নেতাদের আন্দোলনের হাতিয়ার
কতিপয় জনগনের সস্তা সেন্টিমেন্টকে
উসকে দিয়ে...
আসলে দেশকে অচল করা
দূর্জন মরলে দেশ বাঁচে
কোনই অবদান নেই এ দেশের জন্য
আসলে তার কি কোন প্রয়োজন?
এই হলো বাংলাদেশি নারীদের ক্রম-অবস্থান....আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম??? নারী শিক্ষিত আর কর্মজীবী হলেই যে নারীমুক্তি ও স্বাধীনতা পাচ্ছে এটা কি আসলে ঠিক...না । বরং তাদের আবার ইসলামী দাওয়াত নামে ধর্মীও মতবাদ চাপিয়ে দিয়ে পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে অনেকটা পথ । ৮০ সালে বাসে ১০/২০% বোরখা পড়তো আর এখন ৮০ % ...কারণ কি বুঝতে পারছেন না?
"মা গো আমায় দেখাসনে আর জুজু বুড়ির ভয়,
আজকাল আর আমি তোমার ছোট্ট খোকা নই।"
হ্যাঁ সেই বোধ ছোট্টবেলায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল পরিবার থেকে তারপর প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে স্কুল থেকে...স্বপ্ন দেখতাম একসময় আমি ঘুরে বেড়াবো সারা বিশ্বে। কিন্তু বড় হতে হতে ইচ্ছেগুলো কেমন যেন অনুশাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে শুরু হলো পরিবারেই.....আসলে সমস্যাটা হলো নারী বলেই। তার মানে ছোটবেলার শিক্ষাগুলো একান্তই পুরুষের জন্য, নারীদের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ন নয়। নারী জীবনের প্রতিপদেই বাঁধা....বয়স হলে ভালবাসা, দায়িত্ব-কর্তব্যের নামেও তাকে একা ছাড়া হয় না।
সেই জুজুবুড়ির ভয়টাকে অতিক্রম করতেই এবার একাই একদিন বেরিয়ে পড়লাম বাড়ির পাশে বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে। একা হলেও আগেই সেখানকার বৃক্ষবন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করে নিয়েছিলাম, থাকার ব্যবস্থাও আগেই করে নিয়েছিলাম...যাযাবর হতে এখনো দ্বিধা আছে মনে হয় !!
তবে বাগেরহাটে যাবার আগে এর কিছুটা জানার জন্যই পড়লাম।
বিভিন্ন মতবাদ আছে এর নামকরণের :
বাখরগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা আগা বাকেরের নামানুসারে এই স্থানের বা হাটের নামকরণ করা হয়েছিল বাকেরহাট। কালক্রমে তা বাগেরহাট-এ পরিণত হয়।
প্রচুর গাছের সূত্রে এই স্থানকে বাগান অর্থে বাগেরহাট নামকরণ করা হয়েছিল।
সুন্দরবনের বাঘ থেকে বাঘেরহাট হয়, পরে তা লোকমুখে বাগেরহাট-নামে পরিণত হয়।
ভৈরব নদী কচুয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় যে স্থান বাঁক নিয়েছে, তার বিপরীত দিকে রয়েছে প্রাচীন নাগেরবাজার। অনেকের ধারণা এখানে পুরানো হাট বসতো। নদীর বাঁকে অবস্থিত বলে এ হাটের নাম হয়েছিল বাঁকের হাট। পরে তা বাগেরহাট-এ পরিণত হয়।
অনুমান করা যায়, এর আদি নাম মাধবগঞ্জ ছিল।
তবে নামকরণ যে কারণেই হোক এখানকার বাগানই মূলত আমাকে টেনেছে। সবচেয়ে বেশি টেনেছে বন্ধু Madhobi Lata সবসময় বৃক্ষকথা গ্রুপে ওখানকার অনেক অচেনা অজানা ফুল বা গাছের ছবি পোস্ট করতো, কাছ থেকে দেখার জন্যই আসলে এভাবে যাওয়া।
হ্যাঁ ওখানে সবার বাড়ি বিশাল বিশাল জায়গা জুড়ে...নারিকেল আর সুপারি সারি সারি , এরই ফাঁকে ফাঁকে ঢাকায় যে গাছগুলো বিলুপ্তপ্রায় মনে করেছিলাম সেই আকরকাঁটা, মুচকুন্দ চাঁপা ওখানে প্রচুর আছে দেখলাম। এছাড়া পানের বরজ, আমরুল শাক, মান্দার গাছ, জিকা বা জিগা গাছ প্রচুর আছে। হাইওয়েতে দেখলাম বাবলা, মিনজিরি,কড়াই গাছের সারি।
সাধারণত বাড়ির বাউন্ডারিতে হেজ হিসেবে জিকা, বাসক, আকরকাঁটা বেশি ব্যবহৃত হয় ।
অতিথি আপ্যায়নে এদের জুড়ি মেলা ভার....তাদের নিজস্ব খাবারের মধ্যে চিংড়ি-নারিকেল, ডিম-নারিকেল আর মজাদার পিঠা হলো সেমাইপিঠা, যা ওখানে বলা হয় সেয়াই পিঠা। আসলে এই পিঠা খেতে হয় ঝাল মাংসের ঝোলের সাথে। বন্ধু মাধবী খুব যত্ন করে সেই পিঠা ৩/৪ ঘন্টা খাটুনি করে বানিয়ে খাওয়ালো।
বাগেরহাটের বাইরে থাকা বন্ধু Badal Alam ভাইও আমাকে তাদের এলাকা দেখানোর জন্য অনেক ব্যস্ততার মাঝেও ছুটে এসেছেন, বন্ধু Rafiqul Alam ভাইও অনেকটা সময় আমাদের নিয়ে ঘুরে দেখিয়েছেন। আর Swapon Bosu দাদা তো শুরুতেই হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে আমায় নিরাপত্তা দিয়েছেন। আর আড্ডা দেয়ার জন্য বন্ধু শাওনও অনেকটা সময় দিয়েছে।
সবার আন্তরিক সহযোগিতায় আমার একা চলা সার্থক হলো। অশেষ ধন্যবাদ সকল বন্ধুকে...
ছোটবেলা থেকে মানুষকে নির্মমভাবে মারার যে কৌশল এ সমাজে শেখানো হচ্ছে তা অবিলম্বে বন্ধ না করলে এই দেশ একদিন আবার ফিরে যাবে আদিমযুগে, এ আমি হলফ করে বলতে পারি, নৈতিকতা এখন মানুষের নিজের ভেতরেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে........আবারো মনের ভেতর কষ্টের একটা ক্ষত তৈরি হলো, অভিজিতের মৃত্যুর ক্ষতটা এখনো জ্বলজ্বল করছে যার প্রভাব শরীরেও ভয়ানকভাবে আক্রমন করেছে। ভাল নেই দেশ, এভাবে ভাল থাকা যায় না...স্বাধীনতাহীনতায় কিভাবে বাঁচবো?
আজ খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য খুব কষ্টের একটা দিন...এই দিনে তাদের ধর্মগুরু যীশুখ্রীষ্টকে মেরে ফেলা হয়....
তার মানে এখানেও সেই ধর্মের যুদ্ধ
যীশু তার নতুন মত প্রচার করছিলেন যা সে সময়ের কিছু মানুষ মেনে নিতে পারেন নি, মেরে ফেললো প্রকাশ্যে।
এভাবেই সময়ের সাথে সাথে জ্ঞানী ও যুক্তিবাদি মানুষ কিছু ভ্রান্ত মতবাদ পরিবর্তন করতে চেয়েছে আর তখন তার কিছু অনুসারী তৈরি হয়েছে। পূর্বের কিছু অনুসারী সেটা মেনে নেয়নি, যুদ্ধ করেছে এবং সেগুলো এখনো অব্যাহত আছে...তাই এখন এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন অনুসারী...যারা এখনো নিজের মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে অমানুষের মত পশুবৃত্তির বশে খুনাখুনি করে যাচ্ছে...এখানে ঈশ্বর কোথায়? উনিই কি তবে চাচ্ছেন এভাবে সবাই তাকে ভাগাভাগি করুক?
যারা এসব নিয়ে উন্মুক্ত দৃষ্টিতে চিন্তাভাবনা করে তারা বুঝে গেছে সারমর্ম...ঝেড়ে ফেলেছে সব ধর্মীয় মতবাদ।
সবচেয়ে বড় কথা সময়ের সাথে সাথে মানুষের জ্ঞানবুদ্ধি, চিন্তা-চেতনার বিকাশ না হলেই এমন হয়।
প্রখ্যাত চিত্রপরিচালক ও ক্যামেরাম্যান বেবী ইসলামের আজ ৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী।
অনেকটা সময় আজ বনানী কবরস্থানে কাটালাম, প্রায় ২ঘন্টা। আমার মত বিধর্মী নিরীশ্বরবাদী কবরস্থানে ঘুরতে ঘুরতে একটি বিষয় আবিস্কার করলাম, মৃতদেহকে কেন্দ্র করে এই যে বিশাল স্থান সংরক্ষিত সেটা এই দরীদ্র জনবহুল দেশে আসলে কতটা ন্যায্য? পাশাপাশি অবশ্য পজিটিভ চিন্তাও করলাম এতে অবশ্য কিছুটা জায়গা খালি পাওয়া যায়, যাতে গাছপালা লাগানো হয়। এতে অনেক পাখি ও প্রানীর অভয়ারন্য হয়।
যাক যা বলছিলাম, বেবী ইসলাম আমার দেখা মহান মানুষদের মধ্যে একজন.....কোন কৃত্রিমতা তার ভেতর কখনো দেখিনি। রাগ-ক্ষোভ কখনো প্রয়োজনেই দেখাতেন, সত্যিকথা বলতে কখনো ভয় পেতেন না।
জীবনের শেষ সময়ে বাসাভাড়া বাবদ যে টাকা পেতেন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হওয়ায় সেটা ব্যাংক ব্যালান্স না করে মায়ের নামে তার পিতৃভূমিতে একটা দাতব্য চিকিৎসালয় শুরু করেন। উদ্দেশ্য দরীদ্র গভর্বতী মায়েরা যেন সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়।
এই মহান ব্যক্তির সৃষ্ট হাসপাতালটা যেন তার মৃত্যুর পরেও চলে এ কারনে উনি লালমাটিয়ার ১১ কাঠা জায়গা ৪তলা বাড়ি সহ বিক্রি করে যান। যদিও বিক্রিলব্ধ সব টাকা তার স্ত্রী তন্দ্রা ইসলাম এখনো পান নি। ড্যাফোডিল কলেজ তার এই সম্পত্তি ক্রয় করে।

বেবী দাদা আমার কাছে একজন সৎ ও মানবিক মানুষ....শ্রদ্ধাঞ্জলি তার উদ্দেশ্যে সবসময়
তুমি তো জান
বৃষ্টি খেলা করে হৃদয় নিয়ে ঘোর বর্ষায়
উদ্বেলিত হয়ে ওঠে বুভুক্ষু মন
ফিরে আসে সুখস্মৃতি...
গেয়ে ওঠে প্রান
বৃষ্টিকে আলিঙ্গন করি
একাকি হাঁটছিলাম
দীর্ঘ পথ বর্ষাতি গায়ে
সন্ধ্যার আঁধারে ছেয়ে গেল দিন
নেমেছে আঁধার করে
বিমর্ষ সূয্যি মামা
সবচেয়ে বড় কথা
বৃক্ষপরিবারে লেগেছে
আনন্দ-অভিসার
সাজ সাজ রব
দীর্ঘদিনের কালিমা
ধুয়ে মুছে নির্মল
বুড়ো-বাচ্চা সব..
পথ বরাবর টেনে নিয়ে যায় সবুজ হাতছানিতে
শহরের অহেতুক ব্যস্ততা, রূদ্ধশ্বাসে ছোটাছুটি
দম বন্ধ করা জীবনযাপন
ভাবি এ কারণেই কি মানুষ জীবন?
নিজের তৈরি করা এই পথে
মানুষই এখন যন্ত্রজীবন
নেই সময় খোলা আকাশে দাড়িয়ে
মুগ্ধ চোখে নীলাকাশ, চাঁদ আর সবুজ দেখার
সুন্দরী কলকাতা কখনো দেখা হয়নি
ময়লার আস্তরণে আবৃত শহরই মানস পটে
বর্ষায় দেখেছি তার অন্য এক রূপ
যৌবনা সুন্দরি অত্যুক্তি মোটেও নয়
বৃষ্টিস্নাত বৃক্ষপরিবার কি উদারতায়
আহবান জানায় ছেলে বুড়ো সকলেরে
আষাঢ়ের বৃষ্টিতে হুগলিতে বেড়াতে গেলাম কলকাতা থেকে। কিভাবে যেতে হবে খুব সুন্দর করে
বলে দিলেন প্রদীপদা আর কমলদা। সুতরাং আমার সমস্যা হবার কথা নয়, তবুও পণ্ডিতি করে
একটা ট্যাক্সি নিলাম হাওড়ার উদ্দেশ্যে..দেখি পথ আর শেষ হয় না। হাওড়ার ব্রিজটা আসলে দেখার মত।
হাওড়ার রেল স্টেশনে কাউন্টার খুঁজে একটা ব্যান্ডেল হগলির টিকেট কাটলাম, বললো দৌড়ে যান ট্রেনটা ছেড়ে যাবে ৪ নম্বর থেকে। এখন আমি হলাম নবাগত, ৪ নং প্ল্যাটফরম খুজে পেতেই ট্রেন ছেড়ে দিল, ট্রেন মিস করলাম। পরের ট্রেন কখন আসবে জানার জন্য যাকেই জিজ্ঞাসা করি কেউই বলার সময় পাচ্ছে না। এতোই ব্যস্ততা সবার ওখানে, বিশেষ করে চাকুরীজীবীরা ওখানে খুবই ব্যতিব্যস্ত...মৌমাছির ঝাকের মত শুধুই উড়ছে।
তা ছাড়া কুলি, সুইপার ওরাও কোন সহযোগিতা করছে না। পড়লাম ভীষণ বিপদে, এক দোকানদারের কাছে জানতে চাইলাম , উনি বললেন ওই যে মাইকে বলছে আপনি শুনুন।
যাক অপশেষে জানতে পারলাম পরের ট্রেন আসবে ৫ নম্বরে...আমি ৫ নম্বরের কাছে দাঁড়িয়ে ভাবছি কোন লাইনে আসবে? ২টা লাইন আছে। পানি কিনতে হবে, যাব কিনা ভাবছি...গেলে যদি ট্রেন মিস করি ভাবতেই হুস করে ট্রেন চলে এলো.....গাদা গাদা মানুষ নামলো আগের মতই ....হাজারে হাজারে।
যাক একটা খালি কম্পার্টমেন্টে উঠৈ পড়লাম জানালার কাছে। পরপর দেখালাম পুরো ট্রেনই ভরে গেল নিমেষে, এবং হুইসেল দিয়ে ট্রেন ছেড়ে দিল।
বিভিন্ন হকার নানান জিনিষ বিক্রি করছে, একজনের কাছ থেকে মিষ্টি বাদাম কিনলাম। সামনের সহযাত্রী ঝালছোলা কিনলো দুজনেই খাচ্ছি, ভাবলাম পানি পিপাসা পেলে উপায় নেই। সামনের লোক ব্যাগ থেকে পানি বের করে খেলেন, আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন খাবেন? আমি হেসে দিলাম এবং খেলাম। উনি জানতে চাইলেন কোথায় যাব, কোত্থেকে এসেছি। কথা প্রসঙ্গে জানলাম উনি দিল্লির মানুষ, ব্যবসায়ী। বাংলাদেশে যাবার খুব ইচ্ছা আছে ব্যবসার জন্য।
যাক প্রায় ২ ঘন্টার পর হুগলিতে নামলাম, দেখলাম খুব একটা যাত্রী সেখানে নামে নি। এক দোকানে দাঁড়িয়ে চা খেলাম, ২০ টাকা কেজি আম্রপালি আম দেখে কিনে ফেললাম...আসলে আম আমার খুবই পছন্দের ফল। ওপার থেকে ওভারব্রিজে এপাড়ে এলাম , কমলদার কথামতো একটা রিক্সা নিয়ে তার দেয়া ঠিকানায় পৌঁছে গেলাম নির্বিঘ্নেই। দেখলাম একরাশ উষ্ণতা নিয়ে দাদা -বৌদি অপেক্ষা করছেন।
২৪ থেকে ২৬ তারিখ দাদার ওখানে ছিলাম, একবারও মনে হয় নি আমি ফেসবুকের কোন অচেনা মানুষের বাসায় আছি...কোথায় যেন একটা আত্মীয়তার সূত্র আমাদের ভেতর কাজ করে....মূল সুর হলো আমরা বাঙ্গালী, আর কমলদা বা বৌদির পূর্বসুরীরা একসময় এদেশ ছেড়ে ওদেশে যেতে বাধ্য হয়েছেন রাষ্ট্র/ধর্ম নামক এই গোলকধাঁধার চোরাবালিতে। যা আজো তাদের ভেতর কাজ করে, আজো বাংলাদেশি কাউকে দেখলে তাদের ভেতর গভীর এক মমত্ব কাজ করে। কত কিছুই না ওনারা আমাকে খাইয়েছেন...সেটা আর নাই বললাম। যদিও বাংলাদেশিদের ভেতর ধারনা কলকাতার মানুষ খুব হিসেবি, আমার কিন্তু তা কখনোই মনে হয়নি। প্রদীপদা আমি ওদেশে গেলে যা করেন তা বাংলাদেশি কেউই তেমন করেন না, কমলদার আতিথেয়তাও সত্যি দেখার মতন, আমি আপ্লুত তাদের ভালবাসায়।
ঐতিহাসিক ব্যান্ডেল চার্চ দেখাতে নিয়ে গেলেন , চুচূড়া যেতে পথে দেখলাম আরেকটা ঐতিহাসিক হাসপাতাল, সময়াভাবে সেখানে ঢুকতে পারলাম না। বৃষ্টি কিন্তু সারাদিনই টিপটিপ করে ঝরছিল...কিন্তু বেড়ানো তার জন্য বন্ধ হয়নি আমাদের। চুচুড়া মার্কেটে জিনিষপত্রের দাম দেখলাম কলকাতার চেয়ে অনেক সস্তা ও কোয়ালিটির।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে বিষয়গুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে তা হলো...তাদের অকৃত্রিম ভালবাসা। উন্নত ও সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা, ভাড়াও কম , গ্যাসের সিলিণ্ডার অনেক সস্তা, মাছ বা মাংস চয়েস করে টাটকা কেটে কেনা যায় , তাতে নিজের আয়ত্বের ভেতরেই কেনা যায়। যা আমাদের ইচ্ছা থাকলেও কিনতে পারি না শুধু এই সিস্টেমের অভাবে।
আমরা কতগুলো বিষয় কত সহজেই বলি বা বিশ্বাস করি...এর পেছনে কোন যুক্তি আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই না করেই।
যেমন এক বন্ধু কত সহজ বিশ্বাসে বলে ফেললো, " কদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে রথযাত্রার কারণে, প্রতিবারই রথযাত্রার সময় এমন বৃষ্টি হয়।" আবার রোজার সময় বৃষ্টি হওয়ায় রোজদার ব্যক্তির ভাষ্য হয় " আল্লাহ আমাদের জন্যই বৃষ্টি দিয়েছে এই সময়। "আবার যদি বৃষ্টি না থাকে প্রচণ্ড গরমে রোজদার ব্যক্তির ভাষ্য হয় "আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করে দেখছেন।" আসলে সবকিছুতে প্রাকৃতিক বিষয়গুলোও আমরা কত সহজে বিনাযুক্তিতেই ধর্মের সাথে সংযুক্ত করে ফেলি কারণ এটা শুনে আসছি আশৈশব, আর প্রশ্নহীন নির্দ্বিধায় সব আত্মস্ত করে ফেলি।
আমাদের আসলে যুক্তিহীন এই বিশ্বাসে আঘাত করতে হবে সমূলে নইলে এরা বিজ্ঞানমনষ্ক কখনই হবে না , কিন্তু বিজ্ঞানের সব সুযোগসুবিধা ভোগ করবে আর বলবে এগুলোও সব আল্লাহর/ ঈশ্বরের নির্দেশেই আমরা পেয়েছি।
পরিবর্তণের ঘন্টাধ্বনি
কারখানায় বেজেছে ঘন্টাধ্বনি
পালাবদলের কারিগর হাজির
ক্লান্ত ঘর্মাক্ত শ্রমিক
অবসন্ন দেহে বেরিয়ে পড়ে
চোখে তার ধোঁয়া ওঠা ভাতের চেয়েও
জীর্ণ-শীর্ণ বিছানা ডাকে আয় আয়

মালিক চায় নব উদ্যোম
নবীন উচ্ছল তারুন্য
পুরাতণ, অবশ আনে না জোয়ার
নতুন চিরদিনই কাম্য সকলের
কবির খাতায় উঠে আসে
উদ্বেলিত ফেনায় যৌবন
সব ক্ষেত্রেই অবহেলিত প্রবীন
চিরন্তণ সত্য মেনে নেয় যে জন
আধুনিক, বুদ্ধিমান সেই জন
তাকে নমস্য শতবার !!
বিজ্ঞান জয়ী হচ্ছে , হারিয়ে যাচ্ছে বেদে পেশা শিঙ্গা, ঝাকফুক, লতা-পাতার ঔষধ তাবিজ-কবজ :
আদিকাল থেকে বেদে নারীরা চুড়ি-ফিতা-খেলনা বিক্রি, শিঙ্গা লাগানো, দাঁতের পোকা তোলা, তাবিজ-কবজ বিক্রি, সাপেকাটা রোগীর চিকিৎসা, সাপের খেলা দেখানো, সাপের ব্যবসা করা, আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য সেবাদান, ভেষজ ওষুধ বিক্রি, মৃত পশুর শরীরের অংশ এবং গাছ-গাছড়ার ওষুধ তৈরি করে বিক্রি, বানরখেলা ও জাদু দেখানো, মাছ ধরা, পাখি শিকার ইত্যাদি হরেক উপায়ে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতেন।
এখন মানুষ সচেতন হচ্ছে, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় চিকিৎসাব্যবস্থা এখন উন্নত হয়েছে । মানুষ জানতে পারছে এইসব তুকতাক ভড়ং -এ মানুষের সত্যিকারে কোন উপকার হয় না বরং বেশি দেরি হলে ক্ষতিই হয়ে যায়, বরং হিতে বিপরিতও হতে পারে। যেমন ওরা এই সিঙ্গার ভেতর দিয়ে যে ফ্লুয়িডটা আক্রান্ত অংশে পাঠায় সেটা মুখের নিঃসৃত পানের পিক বা থুথু, সেটাই আবার টেনে নেয় ভেতরে। তারপর বুঝাতে চায় অনেক বাতের রস বের হয়েছে শরীর থেকে ...এভাবেই মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে সুপ্রাচীনকাল থেকে এই ব্যবসা ওরা টিকিয়ে রেখেছিল বাঁচার সংগ্রামে।
এখন আর তা পারে না, ওরা এখন আরো হতদরীদ্র হয়ে পড়েছে, জনগন এগুলো করতে না চাইলে, তারা রীতিমত ভিক্ষাবৃত্তি করে পেটের তাগিদে।
বান্ধবী রওনাক প্রায় ১৬ বছর ধরে স্বামীকে ধরে-বেঁধে মানুষ করার জন্য আজ এ হুজুরের কাছে, কাল ওমুক সাধুর কাছে ছুটাছুটি করে। ঘর-সংসারের কাজের পরেই সে এ কাজগুলো করে, তাই যখনই ফোন করি শুনি ও এখন ওমুক জায়গায় আছে। জিজ্ঞাসা করলাম এইবার আবার কি সমস্যা? বললো শ্বাশুড়ী আর মামা শ্বশুর ওর স্বামীর কাছ থেকে সব টাকা, জমি-জমা নিয়ে যাবার মতলবে স্বামীকে তাবিজ করেছে। আমি বললাম তাহলে এখন উপায়? সে বললো এই তাবিজ কাটার জন্য কোরান শরীফেই একটা সুরা আছে যা উল্টা করে লিখলে সেটা উল্টো হয়ে স্বামীর উপর থেকে তাদের দিকে ধাবিত হবে, একে বলে কুফরী কালাম। বললাম তখন কি তারা উল্টা তোমাদের নামে সব লিখে দেবে? তখন তার উত্তর হলো না আমার স্বামীর ফাঁড়া কেটে যাবে।
এটা এই সমাজে কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। হিন্দু-খ্রীষ্টান সব মানুষই বিশেষ করে মেয়েরাই এইভাবে তাবিজ-কবজ-যাদু-টোনা-বান এগুলো বিশ্বাস করে এবং অনেক পুরুষও এগুলোতে বিশ্বাস করে। তবে মেয়েরা বেশিরভাগ সময় স্বামীকে বশিকরণ করার জন্যই এই ভণ্ড সাধু-পীর-ফকিরের স্মরনাপন্ন হয় আর তারা এই সুযোগটাকে আরো বেশি কঠিন কঠিন কথা বলে বিশ্বাসযোগ্য করে দেয় রোগীর মনে। সে এতই আপ্লুত হয় যে তখন হুজুর-পীর-সাধু যাই দাম হাকে তাও দিতে কার্পন্য করে না। হ্যাঁ এরা সবাই আসলে একধরণের দূর্বল মনের মানুষ তাই এই অবিশ্বাস, সন্দেহ বিভিন্ন কিছু তাদের ভেতরে এমন ভাবে দূর্বল করে মানসিক রোগী করে ফেলে...এবং এরা কখনই এধরণের কাজ থেকে বের হতে পারে না। আর এই হুজুর-পীর-সাধু ব্যবসা এ দেশ থেকে মুক্ত হতে পারে না, এরা এখনো জাকিয়ে বসে আছে সমাজে।
সাতাইশ নামে গাজীপুরে একটা গ্রাম আছে। যে গ্রামের এক বাড়িতে প্রায় সবকয়টা মেয়েকেই আমি এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখেছি। একসময় সে ঘর অন্ধকার করে সেই ঘরে ভয়ানকভাবে চিৎকার করে, কাঁপুনি দিতে থাকে কাঁথা গায়ে দিয়ে, কাপড়-চোপড় সব খুলে ফেলে। কখনো হাসতে থাকে । তখন বাড়ির সবাই খুবই আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। তাদের কাছে জানতে চাইলাম ঘটনা কি?
তাদের উত্তর "ওকে জ্বীনে ধরেছে"। বললাম আর কাউকে তো ধরে না, ওকে ধরেছে কেন? তাদের কথা হলো যারা আল্লাওয়ালা মানুষ তাদের সাথে জ্বীন ভাবসাব করে বেশি।
এখনো কোন কোন অঞ্চলে দেখা যায় মেয়েদের জ্বীনে ধরে, ভুতে ধরে কিন্তু গড়পড়তায় ছেলেদের তেমন ধরে না। আসলে এটা একটা রোগ, নাম হিস্টিরিয়া। মেয়েরা এই রোগে আক্রান্ত হয় বেশি কিন্তু ছেলেরা কম হয়।
কারণ কি?
আসলে এই ট্র্যাডিশনটা তাদের পরিবারের সব মেয়েদের ভেতরই দেখেছি। অবদমিত কাম-ক্ষোভ-রাগ-দুঃখ-কষ্ট থেকেই মানুষের ভেতর তৈরি হতে থাকে বিষাদ বা হতাশা। আর সেখান থেকেই মানসিক এই রোগের উৎপত্তি।
নাজমা খালাকে বিয়ের পরেও দেখেছি সবাইকে বলতো তার সাথে জ্বীন আছে, মাঝে মাঝে সে এসে তার উপর ভর করে। তখন খালা কাপড়-চোপড় সব খুলে উলঙ্গ হয়ে যায়। তার স্বামী-বাচ্চারা তখন দরজা-জানালা বন্ধ করে তাকে আটকে রাখে একটা রুমে। একসময় টায়ার্ড হয়ে সে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠলে তাকে স্বাভাবিক লাগে। আসলে বিয়ের পরও নাজমা খালা স্বামীকে দিয়ে শারিরিক সুখী হতে পারেনি, তার অবদমিত কাম থেকে মানসিক যে অসামঞ্জস্যতা তৈরি হয়েছে তাই মাঝে মাঝে প্রকট রূপ ধারণ করে।
যারা ঈশ্বর, আল্লাহ, ভগবান বিশ্বাস করে তারা জ্বীন, মন্দ আত্মা, ভুত বিশ্বাস করতে বাধ্য কারণ তাদের ধর্মগ্রন্থেই এই বিষয়গুলোর উল্লেখ আছে।
প্রশ্ন হলো এই বিষয়গুলো বিজ্ঞানের এই আধুনিক যুগে প্রমানিত হয়ে গেছে যে কি কি কারণে মানুষ এই রোগগুলোতে আক্রান্ত হয়...জ্বীনে-ভুতে ধরা আসলে কি? এরপরেও কি এগুলো বিশ্বাস করা যায়? যদি না যায় তাহলে কি ধর্মগ্রন্থের এই বিষয়গুলো ভুল হয়ে যায় না?
মানুষ বা প্রানী কখনই একা চলতে পারে না, তাই তারা বন্ধু বানায়, গ্রুপ বানায়...সমাজবদ্ধভাবে বাস করে। আমরা কি গাছপালার ক্ষেত্রেও এমনটা অনেকসময় দেখি না? গাছের নীচে বীজ পড়ে গাছ জন্মায় এভাবে তারাও একটা কলোনী বানায়। হয়তো তারা একে-অপরের উপর নির্ভর করে না ? তবুও আমরা কি দেখি না সব গাছ কিন্তু সমানতালে বড় হয় না। তার মানে তাদের ভেতরও কিছুটা প্রতিযোগিতা-ঈর্ষা কাজ করে। এদের মধ্যেই অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম, আন্তরপ্রজাতিগত সংগ্রাম ও পরিবেশগত সংগ্রাম ঘটেই চলে, ফলে কিছু কিছু গাছপালা যুদ্ধে হেরে মৃত্যুও বরণ করে। কোন কোন গাছ খাদ্য তৈরি করতে না পেরে পুষ্টিহীনতায় মারা যায় বা দূর্বল আকৃতির হয়।
আবার কিছু কিছু গাছপালা আছে তারা কিন্তু অদ্ভুত রকমের কলোনি করে বেঁচে থাকে, সংগ্রাম করে না, কোনো বিবাদও না। এই উদ্ভিদগুলি পরস্পরকে দৃঢ়ভাবে প্রীতির বাধনে ধরে রাখে, কেউ কারো খাবার কেড়ে খায় না বা তৈরি করতে বাঁধারও সৃষ্টি করে না। অনেক সময় একসাথেই ঘুরে বেড়ায় গোটা কলোনি নিয়ে...হ্যাঁ এরা হলো কিছু জলজ উদ্ভিদ-ভলভক্স, ইউডোরিনা, পানডোরিনা, হাইড্রোডিকটিওন , পেডিঅ্যাসট্রাম।
এককোষী ভলভক্স গণের উদ্ভিদটি একটি সবুজ শৈবাল। এরা ডোবা, পুকুর, বিলে ভেসে বেড়ায়। এরা সবসময় ফাঁপা বলের মতো আকার ধারণ করে প্রজাতিভেদে ৫০০ থেকে ৬০০০০ ভলভক্স ঘুরে বেড়ায়। এদের সেই ফাঁপা বলের ভেতর শ্লেষ্মা বা মিউসিলেজ জাতীয় পদার্থ দিয়ে ভরা থাকে বলে তারা পরস্পর যুক্ত হয়ে কোষগুলির মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে। তারা একসঙ্গে কাজ ভাগ করে নেয়।
এ আমার দেশ
আনাচে কানাচে এর লুকোচুরি সুন্দরের পরশ
স্বপ্নের মতো ভেসে নেয় মেঘের ভেলায়
কখনো রোদের আল্পনায় সাজায় প্রকৃতি
ভালবাসি দেশ তুমি আছ বলে
জীবনের ষোলকলায় তোমার প্রয়োজন
সৃষ্টি-অসৃষ্টিতে, প্রেম-কাম-মোহে

সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০১৫

জানালা দিয়ে ঢুকে পড়ে নিঃসঙ্গ রাত্রি
হিসেবের হালখাতা দুমড়ে পড়ে
পৌনপৌনিক দেখার জগতে
সবাই ভীষন একলা

বৈচিত্রপিয়াসী লাটিম ঘোরে
কিসের সন্ধানে?
ক্লান্ত অবসন্ন হলে থামে অবশেষে
আসলে কি ফেরে সে?

সাময়িক বিরতিশেষে
আবার পথচলা, জীবনের কানাপথে
যখন হলুদ খাম মুচড়ে পড়ে
এ-ফোর সাইজ কাগজে ঘুণ ধরে
রঙিনের নেশায় বেড়িয়ে পড়ে প্রেম
খোঁজে অলিগলি-রাজপথ-সীমানার বাইরে
কেন ধরে রাখা যে যেতে চায়?
প্রেম আসলে কি----
একান্ত নিজের করে আটকে রাখা
অন্য কারো সাথে শেয়ার দিতে না পারা?
এ কি আসলে প্রেম?
সীমাবদ্ধতা প্রেম হতে পারে না
প্রেমের সীমানা বলগাহীন ঘোড়া
যত্র-তত্র ছুটে বুমেরাং হবে
একসময় ফিরলে বুঝতে হবে
সে সবসময় আমারই ছিল....
প্রসব যন্ত্রনা একটা বড় ধরনের যন্ত্রনা এ যন্ত্রনা কখনই পুরুষদের ভোগ করতে হয় না। এটাকে ওভারকাম করার জন্য অপারেশন করে ডেলিভারীর ব্যাবস্থা করা হয়েছে। এতে স্বামীও স্ত্রীর জন্য খরচ করে তার কষ্টের কিছুটা ভাগীদার হয়। তবে অপারেশনের পর কিন্তু নারীদের অনেক সমস্যাও হয়। আসলে আমরা কি জানি অনেক সময় অপ্রয়োজনেও হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোতে অপারেশন করে? আমরা যদি এ ব্যাপারে একটু সচেতন হই তাহলে কিন্তু আমাদের ক্লিনিকগুলো ঠকাতে পারবে না।
এ ব্যাপারে আমার একটা বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করি:
আমি যখন প্রেগনেন্ট হলিফ্যামিলী হাসপাতালে জরুরী ভিত্তিতে ভর্তি হতে বললো ডেলিভারীর জন্য। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন? তারা বললেন আপনার নরমাল ডেলিভারী হবে না, পানি শুকিয়ে গেছে। আমি যথাবিহিত ভর্তি হলাম। আমি কিন্তু নরমাল, কোনো সমস্যা নেই, বাচ্চার মুভমেন্ট ভালই...আমি সারাদিন ঘুরে ঘুরে সব ওয়ার্ডে বিভিন্ন ডেলিভারীর জন্য যে সব ভর্তি হয়েছে তাদের দেখছি। রাতে বলা হলো কাল সকাল ৮টায় আপনার অপারেশন। আমি বললাম রাতে যে ডাক্তার আসবেন আমি তার সাথে কথা বলবো। গেলাম ওনার কাছে। জিজ্ঞাসা করলাম, " ম্যাডাম আমিতো খুবই সুস্থ, আমার বাচ্চার মুভমেন্টও ভালো, তাহলে আমাকে কেন বলা হলো আমার ভেতরে পানি শুকিয়ে গেছে? পানি শুকালে কি বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিক থাকতো? আর আমার ডেট ওভার হয়ে গেছে যে বলছেন, কিভাবে? আমিতো শেষ মাসিকের তারিখটা বলতেই পারিনি?" উনিও হচচকিয়ে গেলেন, সাথে সাথে আমাকে যে ডাক্তার ভর্তির কথা বলেছিলেন ওনাকে ফোন করলেন। তারপর আমাকে বললেন, আপনি কি বাসায় চলে যেতে চান? ব্যাথা হলে তারপর আসতে চান? আমি বললাম , " হ্যা" তারপর ২ দিন পর স্বাভাবিকভাবেই আমার ডেলিভারী হলো, বাসায়। আসলে আমরা যদি নিজে সাহসী মনোভাব রাখি কেউ , কোথাও আমাদের সাথে অভিনয় করে ঠকাতে পারবে না।
ধর্ম হলো আফিমের মতো...শৈশবে এমনভাবে ঢুকিয়ে দেয় যে ওটা থেকে বেরুতে গেলে মগজ খাটাতে হবে, পড়াশোনা করতে হবে...এতো খাটুনি কে করতে চায় তাই অন্ধভাবে শৈশবের ঢুকিয়ে দেয়া জাবর কেটেই দিন পার করে।
একটা বাড়ি এখন শুধুই ইতিহাস
দেয়ালগুলো সবুজ শ্যাওলা পোষাকে
ইটের গাঁথুনীতে নাড়া দেয়
পলাশ-শিমূলের ছায়ায়
একাকি কুকুর আনমনে নিরুদ্দেশ

ধর্মীয় উন্মাদেরা অস্ত্রের শিক্ষা্য়
নিজেদের শানায় খুর-কাঁচি নিয়ে
ওৎ পেতে থাকা ধূর্ত শেয়াল                
                 মুক্তচিন্তক মস্তকের
আইন গুলো এখানে ঢিমেতালে চলে

কুকুর-শাল-তমাল
            চেনে মানুষ
ধর্মান্ধরা মানুষ চেনে না            
চেনে বুজরুকি ভোঁতা বুদ্ধির নিরীহ বলদ
ব্যবসা সেখানে চলে রমরমা

আমার বাগানে তুই ব্যাটা কে
ধর্ম নাচার করে
                 ব্যবসা ওঠাস লাটে?
দিলাম তোর কল্লাখানি কেটে
টিকিটি আমার ধরতে পারবে না
            আমরা সংঘবদ্ধ
বিশাল বাহিনী আলখাল্লা পরা
             দেখতে একই

তোরা খাপছাড়া, আগাছার মতো
একটানেই সব উপড়ে ফেলি।
প্রশাসন এখানে
               তোদের পক্ষে নয়
এটাই আমাদের সবচেয়ে
                 বড় হাতিয়ার
তাই তোরা হবি শুধুই ইতিহাস
মাঝেমধ্যে স্মরণসভায়
স্মৃতিবিজড়িত কথার কপচানি।
পড়া বা শোনার মানুষ কমে গেছে
বেড়েছে বলার মানুষ
নিজেকে প্রচার করার মানসে
সারাক্ষনই বলছে অন্ধভাবে
কেউ দেখুক আর না পড়ুক
তাহলে শুনবে কে?
চলো শ্রোতা হই
ভাল বক্তা হতে গেলে
আগে শ্রোতা হতে হয়
মনোযোগ দিয়ে শুনতে হয়
পাতার দীর্ঘশ্বাস
পাখির আকুলি-বিকুলি
রেলগাড়ীর আর্তচিৎকার
এক মায়ের অকাল প্রয়াণ
খুব সংগোপনে পুষেছিলেন
একরাশ অভিমান
নিজের মনেই চুপচাপ শুয়ে থাকতেন
হঠাৎ কখনো বলতেন
বুকের ভেতর কেমন যেন ব্যথা

শেষ মুহূর্তে রোগ ধরা পড়তেই
কোন কিছু করার সুযোগ না দিয়েই
চলে গেলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে
রেখে গেলেন সবার মনে
নিজের বিশাল এক ভালবাসার আসন
মা তুমি সবসময় আমাদের হৃদয়ে,
স্মৃতিতে চির অম্লান থাকবে
শ্রদ্ধাঞ্জলি তোমার প্রতি।
হ্যাঁ বন্ধুরা গতকাল ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪ আমাদের বন্ধু Shahida Islam এর মা ফাতেমা বেগম ৭২ বছর বয়সে আমাদের এভাবেই শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে চলে গেলেন চিরতরে। ৯৫ বছরের মাকে রেখে সেই আগে চলে গেলেন। তার মায়ের অবিরাম কান্না সত্যি খুব কষ্টদায়ক। আমরা শোকবিহবল এই পরিবারের জন্য আন্তরিক সহমর্মিতা জানাই।
— with Shefali Dcosta.
সকাল হলো বেঁচে থাকার আনন্দ
রাত্রি হলো দিনের সমাপ্তি
কে জানে কখন জীবনের আঁধার
অবচেতনে চলে আসে...চুপিচুপি
তাই সকাল তোমায় স্বাগতম
চরম ভালবাসার সংসারও
একসময় বিষবৎ মনে হয়
সাবলম্বী ও সচেতন যে জন
সে সাহসী হয়
ভেঙ্গে ফেলে অচলায়তন
সব বিধান দুমড়ে ফেলে

তুমি তাকে কি নাম দেবে
অলক্ষী, ছন্নছাড়া, বাউন্ডুলে?
চেনাজানা পরিধিও একসময়
সীমিত হয়ে যায়
সে কিন্তু থামে না,
সাময়িক থমকে দাঁড়ায়....
স্বাধীনতা অনেক বড়
প্রতিদিনের বিধি-নিষেধের
বেড়া উপড়ে ফেলে
মুক্তির স্বাদ...
অক্সিজেনপূর্ণ দীর্ঘশ্বাস
ছবিপাড়ার আড্ডা
রাত জেগে সাহিত্যের সাথে কথোপকথন
পথ থেকে নেয়া গল্প।
আজ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪...এই কলেজের প্রিন্সিপ্যাল হাসিনা আপার উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী করলাম। কলেজের সকল শিক্ষক ও ছাত্রদের সহযোগিতায় একটা সফল কর্মসূচী হলো। মোট ৮৫টা গাছ কেনা হলো এই প্রোগ্রামে।
বিসিআইসি কলেজ (ইংরেজি: BCIC College) বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশন (শিল্প মন্ত্রনালয়) কতৃক পরিচালিত একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কলেজটি মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন (জাতীয় ঊদ্ভিদ উদ্যান) ও ঢাকা চিড়িয়াখানার কোল ঘেঁষে ৫.১৬ একর এলাকার একটি নির্মল-মনোমুগ্ধকর অঙ্গনে অবস্থিত। যেখানে একদিকে রয়েছে রাজধানী শহরের সার্বিক সুবিদাধি; অপর দিকে রয়েছে শ্যামলীময় পল্লী-প্রকৃতির বিদ্যালাভোপযোগী পরিবেশ। ১৯৮৩ সালে স্কুল শাখার মাধ্যমে কলেজের যাত্রা শুরু। বিসিআইসি স্কুল শাখাও বিসিআইসি কলেজ নামে পরিচিত। বর্তমানে শুধু কলেজ শাখায় ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২০০০ এর অধিক।
— with Khurram Haider and Zayed Farid at BCIC College,Mirpur.
জীবনের পাঠাগারে
শিক্ষার কোন শেষ নেই
প্রত্যহই সবার কাছ থেকে
কিছু না কিছু অর্জন হয়
মুগ্ধতাও আনে হঠাৎ কোন বিষয়
আজ ভোরের দোয়েলের গান

তর্কবিতর্কের ভেতরও
জানা হয় অনেক কিছু
পথ চলতে চলতে ভেসে আসা কলরবে
কতই না বিচিত্রতা
পরিত্যাক্ত কন্ট্রোলরুমে...
ঘরসংসার সাজানো সেই পাগল মেয়েটা
সেও কিন্তু শেখায়, অর্থহীন এ জীবন
স্বর্নঅশোক বনে
দ্বিধাহীন ছুটেছি একা
রঙের আল্পনা এঁকে বিমূর্ত সে
নির্জন সবুজ কার্পেট
শরতের শিশির মাখানো
ভিজে যায় জুতোসমেত পা
কিছুটা সময়, নাহ অনেকটা পথ

শিশুপার্কে শিশু নেই
দোলনা গুলো হাতছানি দেয়
রন্ডেলেসিয়া ঘরে কাঠবেড়ালি
লুকোচুরি খেলে আনন্দে
কর্পূর গাছ দিনে দিনে ধ্বসে যায়
কর্তৃপক্ষের অনাদরে
রমনা তবুও নিদারুণ মনোহর
ও বন্ধু আমার
কেটে যায় সারাবেলা...
সঙ্গীহীন একা একা
অবশেষে খুঁজে পাই
বিজ্ঞান-বদৌলতে
এ যুগের সবচেয়ে
নিবেদিতপ্রান এক
নাম তার মোবাইল

বহবিধ প্রতিভাধর
যোগাযোগ থেকে স্মৃতি ধরে রাখা
সময়-অসময় রাস্তাঘাটে
ঠিকানাহীন কেউই নয় আর
সাথে সাথেই থাকে সবার
ফেসবুকিং থেকে শুরু করে সেলফি
গান শুনতে শুনতে
খেলার সুযোগ
ট্রাফিক জ্যামের বিরক্তিও
কোনই সমস্যা নেই...
চ্যাটে চলে আসে আড্ডা
নির্জন সৈকতে, অথবা
চরম শুন্যতায়....
হঠাৎ বেজে ওঠা প্রিয় কোন গান
রিং টোনে সম্বিত ফিরে পাওয়া
জীবনের অর্থটাই বদলে ফেলে
অধিকাংশের জীবনেই
সেই এখন একনিষ্ঠ সঙ্গী
তাই কখনো চুরি হলে বা নষ্ট হলে
ব্যাটারি শেষ হলে
বড়ই একাকি লাগে
শুন্যতা গ্রাস করে সাময়িক।
ফ্লাশব্যাক
চাঁদের আলো অকৃপণ নেমে এলো
বিদ্যুৎহীন দেশে
ঝকমকে নীলাকাশ, সবুজ ঘাস
নগরীর এদিক-সেদিক
বিদ্যুৎহীন শহর আলোকিত

একটা ব্যতিক্রম রাত
আদিমতার ভেতর ফিরে যাওয়া
টিমটিমে বাতির পরশ
ভুলে গেছি সেই কবে
যেখানে রাত গভীর হলে
গাছে গাছে ভুতের আস্তানা হতো
ভয় পেয়ে ঘুমিয়ে যেত ...
দুষ্ট শিশু-কিশোর দল
কুয়া, পুকুর, চাপকলের জল
হারিকেন, কুপি , হ্যাজাক বাতি
ভুলে গেছি সকলকেই
বর্তমানের সহজতায়
একটা দিনের অসামঞ্জস্যে
শহরে পড়ে গেছে পানির যোগান
মোমবাতির সন্ধান
সিএনজি গ্যাসের অভাবে...
পাবলিক লোকাল বাস প্রায় বন্ধ
বড় বড় মার্কেট গুলো
৮টার মধ্যেই পাততাড়ি গুটায়
মোবাইলে চার্জ শেষ হয়...যোগাযোগহীন
বন্ধ হয় নেটের আড্ডা ফেবুতে
ফিরে আসে হারিয়ে যাওয়া গান
বই-পড়া, ঘরের মানুষের সাথে
ঘরোয়া আড্ডা, খুনসুটি
চার্জার বা মোমের আলোয়
মজার মজার গল্প
যা হারিয়ে গিয়েছিল...
সময়ের খরস্রোতে
আকর্ষণ তীব্র হলে ছুটে যাই কাছে
দীর্ঘশ্বাসে নাভিমূল ভরে নেই
কে কোথায় এমন সুগন্ধ ছড়ায় প্রকৃতি বুকে
তাকাই ইমারত, প্রাসাদ,অট্টালিকা 'পরে
ফুটেছিল অযত্নে ভাঙা মাটির ঘরে....
গুচ্ছ গুচ্ছ রূপবতী ফুল তার,
পাতাও কম নয়, ফল সেও গুণে ভরা
সুর, যন্ত্র আর ভরতনাট্যম
যখন অন্ধকার ভেদ করে
ছড়ায় চারদিক....
ঘুমেরা পালায় রাতকে দিন করে
মনেই হয় না এটা বাংলাদেশ?
হাজার হাজার মানুষ, কোন নেশাদ্রব্য খেয়ে নয়
এমনিতেই উপভোগ করে
সুন্দর-সুসংগঠিত মিলনমেলা
শাস্ত্রীয়গানের এই আয়োজন
যে দেশে প্রকাশ্যে ধর্মীয় উন্মাদেরা
বিভত্স রক্তের উৎসবে মাতে....
সেই দেশেই দেখি প্রানের কথা
সুরের মধ্যে বিলীন হয়
সমবেত মিলন সংগীতে
টেকনাফে নেমে যে রিক্সায় করে হোটেলে গেলাম তার কাছে জানতে চাইলাম এখানকার উল্লেখযোগ্য কি কি আছে যা দেখা যায়। সে জানালো,"আমি বিকেলে আপনাদের নিয়ে যাব সব জায়গায়।"
টেকনাফের বিচটা দেখে তেমন আপ্লুত হইনি, কারণ সেখানে ভেজা ভেজা মাটি, মাছের গন্ধ আর সারি সারি মাছধরার সুন্দর নৌকা/ট্রলারই বেশি, অনেকটা পথ ও গ্রাম পেরিয়ে বিচে যেতে হয়। বিচ হিসেবে তেমন সুন্দর না হলেও আসেপাশের নির্জন গ্রাম দেখতে ভাল লেগেছে। তারপর সেখান থেকে গেলাম ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ দেখতে। যেটা নিয়ে একটা গল্প প্রচলিত আছে যা নিয়ে আবার স্থানীয় রাখাইনদের ভেতর মতবিরোধও আছে।
গল্পটা এমন বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে দেশের সর্ব দক্ষিন অবস্থিত সীমান্ত এলাকা টেকনাফ থানায় বদলী হয়ে আসে ধীরাজ ভট্টাচার্য নামের এক সুদর্শন পুলিশ অফিসার। তৎকালিন সময়ে অনেকটা দুর্গম ও ভয়ংকর জায়গা ছিল টেকনাফ। আর পুলিশের দারোগা ধীরাজ চাকরী করতে আসে সুদূর কলকাতা থেকে। ধীরাজবাবু তার কাজের ফাঁকে প্রায় সময় থানার বারান্দায় চেয়ার নিয়ে বসে থাকতেন। তখন পুরো টেকনাফ জুড়ে এটিই ছিল একমাত্র পাতকুয়া। টেকনাফ থানা কম্পাউন্ডে ছিল বিশাল এই পানির কূপ। যেখানে প্রতিদিন পানি নিতে আসতো আশপাশের রাখাইন যুবতীরা। রং বেরংয়ের পোষাক পড়ে পাতকুয়া থেকে কলসী হাতে পানি নিতে আসা এসব সুন্দরী রাখাইন যুবতীর মৃদু কন্ঠে ভেসে আসা সুরেলা গান শুনে মুগ্ধ হন দারোগা ধীরাজ।
এখানকার জমিদার ওয়াং থিনের একমাত্র রূপবতী কন্যা নাম তার মাথিন। মাথিনও প্রতিদিন সকালে সেই কূপ থেকে জল নিতে আসতো, আর ধীরাজবাবু থানার বারান্দায় বসে মাথিনের আসা-যাওয়া দেখতো। একসময় দুজনের মধ্যে গড়ে উঠে ভালবাসার সম্পর্ক। সম্ভব অসম্ভব নানা জল্পনা কল্পনার স্বপ্ন জালে আবদ্ধ হয় ধীরাজ ও মাথিন। ইতোমধ্যে দুজনের প্রেমের কথা সবাই জেনে যায়। নানা বাধা সত্ত্বেও দুজনের মধ্যে বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়।
এরই মাঝে কলকাতা থেকে বাবার চিঠি আসে ধীরাজের কাছে। কলকাতা যেতে হবে একমাসের ছুটি নিয়ে। ছুটি না মিললে চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে হলেও যেতে হবে। ধীরাজ সিদ্ধান্ত নেন কলকাতায় যাবেন। সিদ্ধান্তের কথা মাথিনকে জানানো হলো। মাথিন রাজি হলেন না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে ধীরাজ এক সন্ধ্যায় টেকনাফ ছেড়ে পালিয়ে গেলেন।
ধীরাজের এভাবে চলে যাওয়াকে প্রেমিকা মাথিন সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। মাথিনের মনে হলো বাবার অসুখের কারণ দেখিয়ে ধীরাজ বরং বিয়ে করার ভয়েই পালিয়েছেন। প্রাণপুরুষ ধীরাজকে হারিয়ে মাথিন অন্ন-জল ত্যাগ করে হন শয্যাশায়ী। জমিদার বাবা ওয়াথিনসহ পরিবারের সদস্যরা শতো চেষ্টা করেও মাথিনকে অন্ন-জল ছোঁয়াতে পারেননি। তার এককথা-ধীরাজকে চাই। প্রেমের এই বিচ্ছেদে এবং অতিকষ্টে একদিন মাথিন মারা যান।
ধীরাজ-মাথিনের প্রেম নিদর্শন দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমান অনেক মানুষ। অনেকে এসে আবেগাপ্লুতও হয়ে পড়েন। সেখানকার একটা বোর্ডে এ কাহিনী লেখা আছে।
তবে আমার মতে যখনই বিয়ের জন্য মাথিনের পরিবার থেকে ধীরাজকে চাপ দেয়া হয় তখনই আসলে ধীরাজ সেই অঞ্চল থেকে পালিয়ে যায়, কিন্তু বোকা মেয়ে মাথিন সেটা বুঝতে পারেনি সে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রানটাই বিসর্জন দিল।
কিন্তু ধীরাজ পুলিশের চাকরী ছেড়ে দিয়ে সিনেমা জগতে ঢোকে এবং কয়েকবছরে অনেক ছবি করে যান।
নারী মানেই এ সমাজে পরগাছা বা পরজীবী। তাকে বাঁচতে হবে সবসময় কিছু না কিছুকে আঁকড়ে ধরে। স্বাধীনভাবে তার চলার, বলার কোনই স্বাধীনতা এখনো এ দেশে দিতে অনিচ্ছুক।
এই যেমন গত ২২ তারিখে সেন্টমার্টিন যাবার পথে জাহাজে প্রায় ৩ ঘন্টা দোতলায় অনেকগুলো পরিবারের সাথে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছি। সব পরিবারের স্বামী, স্ত্রী, বাচ্চারা। আর ইয়াং ছেলেরা দল বেঁধে যাচ্ছে কিন্তু কোন ইয়াং মেয়েদের গ্রুপে যাওয়া দেখিনি। অফিসিয়াল গ্রুপ যারা যাচ্ছে তাদের ভেতরও অবশ্য মেয়ে দেখি নি তেমন।
সবারই দেখলাম আমাদের নিয়ে আগ্রহ, বিশেষ করে নারীদের কারণটা আর কিছু নয় কিভাবে আমরা একা যাচ্ছি। কক্সবাজারে যাবার পথে বাসে তো একজন বলেই ফেললো, " কখনো আমি আমার মেয়েকে নিয়ে একা ঘুরতে পারবো না, অসম্ভব। " আর জাহাজে ওই ভদ্রমহিলা বারবার জানতে চাচ্ছে কিভাবে একা যাচ্ছি? স্বামী কোথায়, কি করে? আমি বললাম সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত সুতরাং সেন্ট মার্টিন দেখার আগ্রহ আমাদের তাই আমরা দুজনেই যাচ্ছি। কেন এতে কি কোন সমস্যা আছে?
আমারতো খুবই ভাল লাগছে, আমার মতো করে আমি স্বাধীনভাবে বেড়াচ্ছি, যা ইচ্ছে তা খাচ্ছি, নিজের মতো করে যেখানে ইচ্ছে সেখানে যাচ্ছি...আমিতো কোন সমস্যায় পড়ছি না? তখন ১৯৯৭ সালের কথা মনে হলো। বিয়ের পর জীবনের প্রথম কক্সবাজার যাওয়া। স্বামীর বন্ধুদের পরিবারের গ্রুপ। নিজের কোনই স্বাধীনতা নেই। যা খাব তার ইচ্ছায়। কেনাকাটা করবো তাও তার ইচ্ছায়। সারাক্ষণ সে তার বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেয়া, মদ খাওয়া নিয়ে আনন্দে ব্যস্ত অথচ আমাদের কোনই স্বাধীনতা নেই নিজের মতো করে একা ঘুরে বেড়াবার। সেই গ্রুপে নারীদের কারোই তেমন কোন স্বাধীনতা দেখি নি।

মেয়েদের আসলে পুরুষের উপর অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীলতাই এ জন্য দায়ী। প্রতিটি মেয়েরই প্রথম কর্তব্য নিজেকে শিক্ষিত করা, কাজ করার মানসিকতা অর্জন করা। অলসতা পরিহার করে মানুষের জীবন যাপন করা। নিজে পরিশ্রম করে আয় করা তাহলে সে মুক্তি পাবে নতুবা পুরুষ খাওয়া-পড়ার বিনিময়ে নারীকে অর্ধাঙ্গী মনে করবে আজীবনই।
যদিও বছরের এই হিসাবে পৃথিবীর কিছুই যায় আসে না তবুও এই গ্রহের বাসিন্দারা আন্তর্জাতিকভাবে এ দিনটাকে উদযাপন করে বিগত বছরের হিসাব-নিকাশ-ভুল-ভ্রান্তি সব মেনে নিয়ে নতুন আশায় ..... তাই Happy New Year 2015
বিদায় ও প্রত্যাশা
বাক্সবন্দী পুরোনো বছর
নতুন কড়া নাড়ে
আগামী সব সময় সুন্দর রহস্যময়
অতীত জমা পরে...
পুরোনো ইতিহাসে
ভাল জমা হয় আনন্দমহলে
মন্দ মুছে ফেলে পজিটিভ মন
সব অসুন্দর, পচা, দূর্গন্ধময় ঘটনা
কফিনে ভরে পাঠাও লাশঘরে
অতঃপর......
সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায়
আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে
এগিয়ে যাও সৃষ্টিশীলতায়
যা ক্ষুদ্রজীবনকে দেবে পূর্ণতা
অর্থবহ ও তাৎপর্যময়
ইচ্ছেগুলো মরে যেত
বিধিনিষেধের বেড়াজালে
বছর হেটে যায় নতুন বছরে
সংসার পুরোনো হয়
প্রাচীণ জীর্ণ-দীর্ণ কুটিরের মত
ভালবাসায়ও জং ধরে...

তোমার শবদেহের সাথে
যাওয়ার ইচ্ছাটা ছিলই
সেই গেলাম
অনেক বছর পরে
কিন্তু তুমি ছিলে আগেরই মত
গোছানো মার্জিত তেমনই
যেখানে তোমাকে শোয়ানো হয়েছিল
সব পচে মিশে গেছে ...
তুমি হৃদয়ে অম্লান
চিন্তা-চেতনে হয়েছি স্বাধীন
যে বীজ বুনেছ অনেক আগে
তা আজ প্রকাশিত
সমগ্র জীবনে
তুমি বেঁচে আছ,
তুমি বেঁচে থাকবে আমাদেরই মাঝে।
সবই হারায় নিয়মতান্ত্রিকতায়
সে বরাবর এমন করেই
গহীন হতে উদয় হয়
গুচ্ছ গুচ্ছ গন্ধ ছড়ায় আমারই বারান্দায়
আকুল করে টানে প্রকৃতিকে
হ্যাঁ এটা কারিপাতা ফুল। শীতে সব পাতা ঝরে যায়, মনে হয় গাছটা বুঝি মরে গেছে। বসন্তের শুরুতে নবপল্লবের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হতেই হতেই গুচ্ছ গুচ্ছ শাদা শাদা নাকফুলের মত ফুল ফোঁটে। গন্ধ খুবই মনোহর। তারপর ছোট ছোট নিমফলের মত দেখতে ফল হয়। একসময় ঝরে যায়...গাছের নিচে অনেক গাছ জন্মে।
এর পাতা তরকারী, চানাচুর এবং বিভিন্ন খাবারে ব্যবহৃত হয়।
নারীদের নিয়ে সবচেয়ে বড় পরিহাস সন্তানের পরিচিতি হয় তার পিতার বংশের অথচ ৯ মাস ১০দিন এই সন্তান ধারণ করে নারী নিজ শরীরের সৌন্দর্য বিলিয়ে সন্তান জন্ম দেয়। কোন কোন ক্ষেত্রে নাম রাখার সময়ই মায়ের দেয়া নাম বিবেচ্য হয় না। পুরুষতন্ত্রের এই নিয়মটার কবে বদল হবে?
এই ব্যাপারে সন্তানদেরও কোনই ভাবান্তর দেখি না। সংসারে স্বামী -স্ত্রীর বিচ্ছেদ হলেও সন্তান যদি মায়ের সাথেও থাকে তবু সে বহন করে চলে বাবার নাম, পদবী আর বংশপরিচয়।
পিতৃতন্ত্র পুরুষের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার জন্যই পুরুষ বীজকেই গুরুত্ব দিয়েছে ফলে সন্তান জন্মদেয়ার সব কষ্ঠ নারীর হলেও সেই সন্তান পুরুষের বংশের ধারক-বাহক হয়েই পরিচিতি পায়। প্রহসন কাকে বলে?
"মা গো আমায় দেখাসনে আর জুজু বুড়ির ভয়,
আজকাল আর আমি তোমার ছোট্ট খোকা নই।"
হ্যাঁ সেই বোধ ছোট্টবেলায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল পরিবার থেকে তারপর প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে স্কুল থেকে...স্বপ্ন দেখতাম একসময় আমি ঘুরে বেড়াবো সারা বিশ্বে। কিন্তু বড় হতে হতে ইচ্ছেগুলো কেমন যেন অনুশাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে শুরু হলো পরিবারেই.....আসলে সমস্যাটা হলো নারী বলেই। তার মানে ছোটবেলার শিক্ষাগুলো একান্তই পুরুষের জন্য, নারীদের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ন নয়। নারী জীবনের প্রতিপদেই বাঁধা....বয়স হলে ভালবাসা, দায়িত্ব-কর্তব্যের নামেও তাকে একা ছাড়া হয় না।
সেই জুজুবুড়ির ভয়টাকে অতিক্রম করতেই এবার একাই একদিন বেরিয়ে পড়লাম বাড়ির পাশে বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে। একা হলেও আগেই সেখানকার বৃক্ষবন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করে নিয়েছিলাম, থাকার ব্যবস্থাও আগেই করে নিয়েছিলাম...যাযাবর হতে এখনো দ্বিধা আছে মনে হয় !!
তবে বাগেরহাটে যাবার আগে এর কিছুটা জানার জন্যই পড়লাম।
বিভিন্ন মতবাদ আছে এর নামকরণের :
বাখরগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা আগা বাকেরের নামানুসারে এই স্থানের বা হাটের নামকরণ করা হয়েছিল বাকেরহাট। কালক্রমে তা বাগেরহাট-এ পরিণত হয়।
প্রচুর গাছের সূত্রে এই স্থানকে বাগান অর্থে বাগেরহাট নামকরণ করা হয়েছিল।
সুন্দরবনের বাঘ থেকে বাঘেরহাট হয়, পরে তা লোকমুখে বাগেরহাট-নামে পরিণত হয়।
ভৈরব নদী কচুয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় যে স্থান বাঁক নিয়েছে, তার বিপরীত দিকে রয়েছে প্রাচীন নাগেরবাজার। অনেকের ধারণা এখানে পুরানো হাট বসতো। নদীর বাঁকে অবস্থিত বলে এ হাটের নাম হয়েছিল বাঁকের হাট। পরে তা বাগেরহাট-এ পরিণত হয়।
অনুমান করা যায়, এর আদি নাম মাধবগঞ্জ ছিল।
তবে নামকরণ যে কারণেই হোক এখানকার বাগানই মূলত আমাকে টেনেছে। সবচেয়ে বেশি টেনেছে বন্ধু Madhobi Lata সবসময় বৃক্ষকথা গ্রুপে ওখানকার অনেক অচেনা অজানা ফুল বা গাছের ছবি পোস্ট করতো, কাছ থেকে দেখার জন্যই আসলে এভাবে যাওয়া।
হ্যাঁ ওখানে সবার বাড়ি বিশাল বিশাল জায়গা জুড়ে...নারিকেল আর সুপারি সারি সারি , এরই ফাঁকে ফাঁকে ঢাকায় যে গাছগুলো বিলুপ্তপ্রায় মনে করেছিলাম সেই আকরকাঁটা, মুচকুন্দ চাঁপা ওখানে প্রচুর আছে দেখলাম। এছাড়া পানের বরজ, আমরুল শাক, মান্দার গাছ, জিকা বা জিগা গাছ প্রচুর আছে। হাইওয়েতে দেখলাম বাবলা, মিনজিরি,কড়াই গাছের সারি।
সাধারণত বাড়ির বাউন্ডারিতে হেজ হিসেবে জিকা, বাসক, আকরকাঁটা বেশি ব্যবহৃত হয় ।
অতিথি আপ্যায়নে এদের জুড়ি মেলা ভার....তাদের নিজস্ব খাবারের মধ্যে চিংড়ি-নারিকেল, ডিম-নারিকেল আর মজাদার পিঠা হলো সেমাইপিঠা, যা ওখানে বলা হয় সেয়াই পিঠা। আসলে এই পিঠা খেতে হয় ঝাল মাংসের ঝোলের সাথে। বন্ধু মাধবী খুব যত্ন করে সেই পিঠা ৩/৪ ঘন্টা খাটুনি করে বানিয়ে খাওয়ালো।
বাগেরহাটের বাইরে থাকা বন্ধু Badal Alam ভাইও আমাকে তাদের এলাকা দেখানোর জন্য অনেক ব্যস্ততার মাঝেও ছুটে এসেছেন, বন্ধু Rafiqul Alam ভাইও অনেকটা সময় আমাদের নিয়ে ঘুরে দেখিয়েছেন। আর Swapon Bosu দাদা তো শুরুতেই হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে আমায় নিরাপত্তা দিয়েছেন। আর আড্ডা দেয়ার জন্য বন্ধু শাওনও অনেকটা সময় দিয়েছে।
সবার আন্তরিক সহযোগিতায় আমার একা চলা সার্থক হলো। অশেষ ধন্যবাদ সকল বন্ধুকে...
Like · Comment ·
মায়ের কোন স্মৃতি তেমন মনে পড়ে না আমার। সেই শৈশবে চিকিৎসার অভাবে মরে গেছেন মা। খুব কম বয়সে হয়তো ৩৮ বা ৩৯ বছর বয়সে ১০টা বাচ্চার জন্ম দিয়ে। মাঝে মাঝে ভাবি কি অমানবিক জীবন ছিল তখনকার দিনের মেয়েদের, বিয়ে হতো ৮ থেকে ১৪ বছরের মধ্যেই। স্বামী মানেই ছিল ভয়ে থরথরি কম্প...পরিবার পরিকল্পনা না থাকায় ১‌ বা ২ বছরের মাথায় গর্ভবতি হওয়া। এতোগুলো ছেলে মেয়ে হলে সারাদিন তাদের পার হতো রান্নাঘরেই। সে সময় জীবনযাত্রা এতো উন্নতও ছিল না। মশলা বেটে রান্না করতে হতো। গ্যাসের চুলার আয়েস সেসময় ছিলনা, কেরোসিন বা লাকড়ির চুলায় রান্না। শহরের মায়েরা তবু কিছুটা কম পরিশ্রম করতেন কিন্তু গ্রামের মায়েদের জীবন ছিল আরো করুণ।
গ্রামের মায়েরা সেই কাকাডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সেরে শুরু করতেন ধান সেদ্ধ, উঠান লেপা, বাড়িঘর লেপা, ধান শুকানো, পাশাপাশি একগাদা মানুষের জন্য রান্না-বান্না করতে করতে দুপুর গড়াতো। দেখা যেত পাতিলের তলায় তার জন্য অবশিষ্ট কিছু খাবার আছে সেগুলো খেয়েই হারিকেন জ্বালানোর বন্দোবস্ত করে সন্ধার রান্না শেষ করে খেয়েই ক্লান্তিতে দিত ঘুম। সেসময় তো আর ঘরে ঘরে টিভি নেই। বিনোদনের জন্য কলের গান বা রেডিও ছিল।
আমার মা ঘুম পাড়ানোর সময় একটা গান গাইতেন এটা কিভাবে যেন মস্তিষ্কে সেট হয়ে আছে " চিনি ওগো চিনি ওগো নন্দিনী....কার মন্দিরী বাজে রিনিঝিনি ঝিনি"
মা তোমার কষ্ট এখন অনুভব করি আমি। তোমার চেহারাও ভুলে গেছি সেই কবে। মা আজ মা দিবস...তোমার উদ্দেশ্যে এই স্মৃতিচারণ ।
তুমি তো জান
বৃষ্টি খেলা করে হৃদয় নিয়ে ঘোর বর্ষায়
উদ্বেলিত হয়ে ওঠে বুভুক্ষু মন
ফিরে আসে সুখস্মৃতি...
গেয়ে ওঠে প্রান
বৃষ্টিকে আলিঙ্গন করি
একাকি হাঁটছিলাম
দীর্ঘ পথ বর্ষাতি গায়ে
সন্ধ্যার আঁধারে ছেয়ে গেল দিন
নেমেছে আঁধার করে
বিমর্ষ সূয্যি মামা
সবচেয়ে বড় কথা
বৃক্ষপরিবারে লেগেছে
আনন্দ-অভিসার
সাজ সাজ রব
দীর্ঘদিনের কালিমা
ধুয়ে মুছে নির্মল
বুড়ো-বাচ্চা সব..
আজ স্বপ্নদ্রষ্টা চে গুয়েভারার জন্মদিন। শ্রদ্ধাঞ্জলি তার উদ্দেশ্যে। এমন করে সবাই যদি স্বপ্ন দেখতো ভেদাভেদমুক্ত একটা রাষ্ট্র-পৃথিবীর, তাহলে পৃথিবী থেকে এই শ্রেনীবৈষম্য অনেক আগেই চলে যেত। মানুষ তখন মানুষের জীবন যাপন করতো, সরকার সব দায়িত্ব নিত। সম্পদের মালিকানা সরকারের...শিশু-বৃদ্ধ সব সরকার দেখতো। নারী-পুরুষ নিজ নিজ জীবন যাপন করতো আনন্দে। নারীকে পুরুষের উপর নির্ভর করতে হতোনা। ধর্মীয় প্রথাগুলো একসময় অকেজো হয়ে যেত। পুরোহিত প্রথা বিলুপ্ত হতো। মানুষ গঠনমূলক কাজে নিবেদিত হতো...যেমন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞানচর্চা, কৃষি- প্রযুক্তির উন্নয়নে।
এখন ধরনীতে অম্বুবাচি চলছে, এ দিনে দেবীদের ফটোসব পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়, এটাকে বলা ধরনীর রজঃস্বলা । এখন পূজো করা যায় না আর বিধবা মেয়েরা এ কদিন মানে ৩/৪ দিন চুলায় রান্নাকরা কোন খাবার খান না, কাম্যক্ষায় ধরনির যোনি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। আসলে দেবদেবি পূজোর মূল বিষয়টাই লিঙ্গ আর যোনী পূজো।
শাস্ত্রকারদের কল্পনার তারিফ করতে হয়।
আপনার বাসায় যে ছোট্ট মেয়েটা আজ পেটের দায়ে কাজ করতে এসেছে ...আপনার কি কখনো মনে হয় এই বয়সের একটা মেয়ে আপনার ঘরেও আছে? আপনার মেয়েটা জীবনটাকে কত আনন্দ ও নিরাপত্তায় কাটাচ্ছে অথচ তারই সমবয়সী এই মেয়েটা সারাদিন অমানুষিক পরিশ্রম করেও আপনার মারধর থেকে রেহাই পায় না, তাকে দিয়ে এমন কিছু কাজও হয়তো আপনি করান যা আপনার মেয়ে হলে পারতেন না। আর খাওয়া দাওয়া, কাপড়চোপড়ের কথা না হয় বাদই দিলাম....তবু বন্ধুরা একবার ভাবুন, আজ কপালের ফেরে সে না হয় এ কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে....এমন দিন কি আপনার মেয়ের জীবনে আসতে পারে না?? কারণ সময় বহমান...
তাই এখনো মানুষ হিসেবে এদের প্রতি সহানুভুতিশীল হোন, এদেরকে মানুষ ভাবুন, এই হোক মানুষের ধর্ম

ভ্রমন

Updated about a week ago
আষাঢ়ের বৃষ্টিতে হুগলিতে বেড়াতে গেলাম কলকাতা থেকে। কিভাবে যেতে হবে খুব সুন্দর করে
বলে দিলেন প্রদীপদা আর কমলদা। সুতরাং আমার সমস্যা হবার কথা নয়, তবুও পণ্ডিতি করে
একটা ট্যাক্সি নিলাম হাওড়ার উদ্দেশ্যে..দেখি পথ আর শেষ হয় না। হাওড়ার ব্রিজটা আসলে দেখার মত।
হাওড়ার রেল স্টেশনে কাউন্টার খুঁজে একটা ব্যান্ডেল হগলির টিকেট কাটলাম, বললো দৌড়ে যান ট্রেনটা ছেড়ে যাবে ৪ নম্বর থেকে। এখন আমি হলাম নবাগত, ৪ নং প্ল্যাটফরম খুজে পেতেই ট্রেন ছেড়ে দিল, ট্রেন মিস করলাম। পরের ট্রেন কখন আসবে জানার জন্য যাকেই জিজ্ঞাসা করি কেউই বলার সময় পাচ্ছে না। এতোই ব্যস্ততা সবার ওখানে, বিশেষ করে চাকুরীজীবীরা ওখানে খুবই ব্যতিব্যস্ত...মৌমাছির ঝাকের মত শুধুই উড়ছে।
তা ছাড়া কুলি, সুইপার ওরাও কোন সহযোগিতা করছে না। পড়লাম ভীষণ বিপদে, এক দোকানদারের কাছে জানতে চাইলাম , উনি বললেন ওই যে মাইকে বলছে আপনি শুনুন।
যাক অপশেষে জানতে পারলাম পরের ট্রেন আসবে ৫ নম্বরে...আমি ৫ নম্বরের কাছে দাঁড়িয়ে ভাবছি কোন লাইনে আসবে? ২টা লাইন আছে। পানি কিনতে হবে, যাব কিনা ভাবছি...গেলে যদি ট্রেন মিস করি ভাবতেই হুস করে ট্রেন চলে এলো.....গাদা গাদা মানুষ নামলো আগের মতই ....হাজারে হাজারে।
যাক একটা খালি কম্পার্টমেন্টে উঠৈ পড়লাম জানালার কাছে। পরপর দেখালাম পুরো ট্রেনই ভরে গেল নিমেষে, এবং হুইসেল দিয়ে ট্রেন ছেড়ে দিল।
বিভিন্ন হকার নানান জিনিষ বিক্রি করছে, একজনের কাছ থেকে মিষ্টি বাদাম কিনলাম। সামনের সহযাত্রী ঝালছোলা কিনলো দুজনেই খাচ্ছি, ভাবলাম পানি পিপাসা পেলে উপায় নেই। সামনের লোক ব্যাগ থেকে পানি বের করে খেলেন, আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন খাবেন? আমি হেসে দিলাম এবং খেলাম। উনি জানতে চাইলেন কোথায় যাব, কোত্থেকে এসেছি। কথা প্রসঙ্গে জানলাম উনি দিল্লির মানুষ, ব্যবসায়ী। বাংলাদেশে যাবার খুব ইচ্ছা আছে ব্যবসার জন্য।
যাক প্রায় ২ ঘন্টার পর হুগলিতে নামলাম, দেখলাম খুব একটা যাত্রী সেখানে নামে নি। এক দোকানে দাঁড়িয়ে চা খেলাম, ২০ টাকা কেজি আম্রপালি আম দেখে কিনে ফেললাম...আসলে আম আমার খুবই পছন্দের ফল। ওপার থেকে ওভারব্রিজে এপাড়ে এলাম , কমলদার কথামতো একটা রিক্সা নিয়ে তার দেয়া ঠিকানায় পৌঁছে গেলাম নির্বিঘ্নেই। দেখলাম একরাশ উষ্ণতা নিয়ে দাদা -বৌদি অপেক্ষা করছেন।
২৪ থেকে ২৬ তারিখ দাদার ওখানে ছিলাম, একবারও মনে হয় নি আমি ফেসবুকের কোন অচেনা মানুষের বাসায় আছি...কোথায় যেন একটা আত্মীয়তার সূত্র আমাদের ভেতর কাজ করে....মূল সুর হলো আমরা বাঙ্গালী, আর কমলদা বা বৌদির পূর্বসুরীরা একসময় এদেশ ছেড়ে ওদেশে যেতে বাধ্য হয়েছেন রাষ্ট্র/ধর্ম নামক এই গোলকধাঁধার চোরাবালিতে। যা আজো তাদের ভেতর কাজ করে, আজো বাংলাদেশি কাউকে দেখলে তাদের ভেতর গভীর এক মমত্ব কাজ করে। কত কিছুই না ওনারা আমাকে খাইয়েছেন...সেটা আর নাই বললাম। যদিও বাংলাদেশিদের ভেতর ধারনা কলকাতার মানুষ খুব হিসেবি, আমার কিন্তু তা কখনোই মনে হয়নি। প্রদীপদা আমি ওদেশে গেলে যা করেন তা বাংলাদেশি কেউই তেমন করেন না, কমলদার আতিথেয়তাও সত্যি দেখার মতন, আমি আপ্লুত তাদের ভালবাসায়।
ঐতিহাসিক ব্যান্ডেল চার্চ দেখাতে নিয়ে গেলেন , চুচূড়া যেতে পথে দেখলাম আরেকটা ঐতিহাসিক হাসপাতাল, সময়াভাবে সেখানে ঢুকতে পারলাম না। বৃষ্টি কিন্তু সারাদিনই টিপটিপ করে ঝরছিল...কিন্তু বেড়ানো তার জন্য বন্ধ হয়নি আমাদের। চুচুড়া মার্কেটে জিনিষপত্রের দাম দেখলাম কলকাতার চেয়ে অনেক সস্তা ও কোয়ালিটির।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে বিষয়গুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে তা হলো...তাদের অকৃত্রিম ভালবাসা। উন্নত ও সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা, ভাড়াও কম , গ্যাসের সিলিণ্ডার অনেক সস্তা, মাছ বা মাংস চয়েস করে টাটকা কেটে কেনা যায় , তাতে নিজের আয়ত্বের ভেতরেই কেনা যায়। যা আমাদের ইচ্ছা থাকলেও কিনতে পারি না শুধু এই সিস্টেমের অভাবে।