বান্ধবী রওনাক প্রায় ১৬ বছর ধরে স্বামীকে ধরে-বেঁধে মানুষ করার জন্য আজ এ
হুজুরের কাছে, কাল ওমুক সাধুর কাছে ছুটাছুটি করে। ঘর-সংসারের কাজের পরেই
সে এ কাজগুলো করে, তাই যখনই ফোন করি শুনি ও এখন ওমুক জায়গায় আছে। জিজ্ঞাসা
করলাম এইবার আবার কি সমস্যা? বললো শ্বাশুড়ী আর মামা শ্বশুর ওর স্বামীর কাছ
থেকে সব টাকা, জমি-জমা নিয়ে যাবার মতলবে স্বামীকে তাবিজ করেছে। আমি বললাম
তাহলে এখন উপায়? সে বললো এই তাবিজ কাটার জন্য কোরান শরীফেই একটা সুরা আছে
যা উল্টা করে লিখলে সেটা উল্টো হয়ে স্বামীর উপর থেকে তাদের
দিকে ধাবিত হবে, একে বলে কুফরী কালাম। বললাম তখন কি তারা উল্টা তোমাদের
নামে সব লিখে দেবে? তখন তার উত্তর হলো না আমার স্বামীর ফাঁড়া কেটে যাবে।
এটা এই সমাজে কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। হিন্দু-খ্রীষ্টান সব মানুষই বিশেষ
করে মেয়েরাই এইভাবে তাবিজ-কবজ-যাদু-টোনা-বান এগুলো বিশ্বাস করে এবং অনেক
পুরুষও এগুলোতে বিশ্বাস করে। তবে মেয়েরা বেশিরভাগ সময় স্বামীকে বশিকরণ করার
জন্যই এই ভণ্ড সাধু-পীর-ফকিরের স্মরনাপন্ন হয় আর তারা এই সুযোগটাকে আরো
বেশি কঠিন কঠিন কথা বলে বিশ্বাসযোগ্য করে দেয় রোগীর মনে। সে এতই আপ্লুত হয়
যে তখন হুজুর-পীর-সাধু যাই দাম হাকে তাও দিতে কার্পন্য করে না। হ্যাঁ এরা
সবাই আসলে একধরণের দূর্বল মনের মানুষ তাই এই অবিশ্বাস, সন্দেহ বিভিন্ন কিছু
তাদের ভেতরে এমন ভাবে দূর্বল করে মানসিক রোগী করে ফেলে...এবং এরা কখনই
এধরণের কাজ থেকে বের হতে পারে না। আর এই হুজুর-পীর-সাধু ব্যবসা এ দেশ থেকে
মুক্ত হতে পারে না, এরা এখনো জাকিয়ে বসে আছে সমাজে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন