মায়ের কোন স্মৃতি তেমন মনে পড়ে না আমার। সেই শৈশবে চিকিৎসার অভাবে মরে
গেছেন মা। খুব কম বয়সে হয়তো ৩৮ বা ৩৯ বছর বয়সে ১০টা বাচ্চার জন্ম দিয়ে।
মাঝে মাঝে ভাবি কি অমানবিক জীবন ছিল তখনকার দিনের মেয়েদের, বিয়ে হতো ৮ থেকে
১৪ বছরের মধ্যেই। স্বামী মানেই ছিল ভয়ে থরথরি কম্প...পরিবার পরিকল্পনা না
থাকায় ১ বা ২ বছরের মাথায় গর্ভবতি হওয়া। এতোগুলো ছেলে মেয়ে হলে সারাদিন
তাদের পার হতো রান্নাঘরেই। সে সময় জীবনযাত্রা এতো উন্নতও ছিল না। মশলা বেটে
রান্না করতে হতো। গ্যাসের চুলার আয়েস সেসময় ছিলনা, কেরোসিন বা লাকড়ির চুলায় রান্না। শহরের মায়েরা তবু কিছুটা কম পরিশ্রম করতেন কিন্তু গ্রামের মায়েদের জীবন ছিল আরো করুণ।
গ্রামের মায়েরা সেই কাকাডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সেরে
শুরু করতেন ধান সেদ্ধ, উঠান লেপা, বাড়িঘর লেপা, ধান শুকানো, পাশাপাশি
একগাদা মানুষের জন্য রান্না-বান্না করতে করতে দুপুর গড়াতো। দেখা যেত
পাতিলের তলায় তার জন্য অবশিষ্ট কিছু খাবার আছে সেগুলো খেয়েই হারিকেন
জ্বালানোর বন্দোবস্ত করে সন্ধার রান্না শেষ করে খেয়েই ক্লান্তিতে দিত ঘুম।
সেসময় তো আর ঘরে ঘরে টিভি নেই। বিনোদনের জন্য কলের গান বা রেডিও ছিল।
আমার মা ঘুম পাড়ানোর সময় একটা গান গাইতেন এটা কিভাবে যেন মস্তিষ্কে সেট হয়ে আছে " চিনি ওগো চিনি ওগো নন্দিনী....কার মন্দিরী বাজে রিনিঝিনি ঝিনি"
মা তোমার কষ্ট এখন অনুভব করি আমি। তোমার চেহারাও ভুলে গেছি সেই কবে। মা আজ মা দিবস...তোমার উদ্দেশ্যে এই স্মৃতিচারণ ।
আমার মা ঘুম পাড়ানোর সময় একটা গান গাইতেন এটা কিভাবে যেন মস্তিষ্কে সেট হয়ে আছে " চিনি ওগো চিনি ওগো নন্দিনী....কার মন্দিরী বাজে রিনিঝিনি ঝিনি"
মা তোমার কষ্ট এখন অনুভব করি আমি। তোমার চেহারাও ভুলে গেছি সেই কবে। মা আজ মা দিবস...তোমার উদ্দেশ্যে এই স্মৃতিচারণ ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন