বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৫

আজিমপুর,বনানী বা নানান কবরে
কিম্বা শ্বশানে..........
যেখানে অবাঞ্চিত মৃতদেহের সৎকার
নইলে সেগুলো একসময় গন্ধ ছড়িয়ে
পরিবেশ দূষিত করবে
আমরা তাকে ধর্মানুসারে নাম দেই
তাকে নানান সুরা, প্রার্থনা আর মন্ত্র পড়ে
জীবনের খেলাঘর থেকে দূর করি
আসলে মরে গেলে সে শুধুই লাশ
অবাঞ্চিতের দলে
মানুষ থাকে প্রিয়জনের হৃদয়ে

আর রাজনীতিকের লাশ হয়
নেতাদের আন্দোলনের হাতিয়ার
কতিপয় জনগনের সস্তা সেন্টিমেন্টকে
উসকে দিয়ে...
আসলে দেশকে অচল করা
দূর্জন মরলে দেশ বাঁচে
কোনই অবদান নেই এ দেশের জন্য
আসলে তার কি কোন প্রয়োজন?
এই হলো বাংলাদেশি নারীদের ক্রম-অবস্থান....আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম??? নারী শিক্ষিত আর কর্মজীবী হলেই যে নারীমুক্তি ও স্বাধীনতা পাচ্ছে এটা কি আসলে ঠিক...না । বরং তাদের আবার ইসলামী দাওয়াত নামে ধর্মীও মতবাদ চাপিয়ে দিয়ে পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে অনেকটা পথ । ৮০ সালে বাসে ১০/২০% বোরখা পড়তো আর এখন ৮০ % ...কারণ কি বুঝতে পারছেন না?
"মা গো আমায় দেখাসনে আর জুজু বুড়ির ভয়,
আজকাল আর আমি তোমার ছোট্ট খোকা নই।"
হ্যাঁ সেই বোধ ছোট্টবেলায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল পরিবার থেকে তারপর প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে স্কুল থেকে...স্বপ্ন দেখতাম একসময় আমি ঘুরে বেড়াবো সারা বিশ্বে। কিন্তু বড় হতে হতে ইচ্ছেগুলো কেমন যেন অনুশাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে শুরু হলো পরিবারেই.....আসলে সমস্যাটা হলো নারী বলেই। তার মানে ছোটবেলার শিক্ষাগুলো একান্তই পুরুষের জন্য, নারীদের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ন নয়। নারী জীবনের প্রতিপদেই বাঁধা....বয়স হলে ভালবাসা, দায়িত্ব-কর্তব্যের নামেও তাকে একা ছাড়া হয় না।
সেই জুজুবুড়ির ভয়টাকে অতিক্রম করতেই এবার একাই একদিন বেরিয়ে পড়লাম বাড়ির পাশে বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে। একা হলেও আগেই সেখানকার বৃক্ষবন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করে নিয়েছিলাম, থাকার ব্যবস্থাও আগেই করে নিয়েছিলাম...যাযাবর হতে এখনো দ্বিধা আছে মনে হয় !!
তবে বাগেরহাটে যাবার আগে এর কিছুটা জানার জন্যই পড়লাম।
বিভিন্ন মতবাদ আছে এর নামকরণের :
বাখরগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা আগা বাকেরের নামানুসারে এই স্থানের বা হাটের নামকরণ করা হয়েছিল বাকেরহাট। কালক্রমে তা বাগেরহাট-এ পরিণত হয়।
প্রচুর গাছের সূত্রে এই স্থানকে বাগান অর্থে বাগেরহাট নামকরণ করা হয়েছিল।
সুন্দরবনের বাঘ থেকে বাঘেরহাট হয়, পরে তা লোকমুখে বাগেরহাট-নামে পরিণত হয়।
ভৈরব নদী কচুয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় যে স্থান বাঁক নিয়েছে, তার বিপরীত দিকে রয়েছে প্রাচীন নাগেরবাজার। অনেকের ধারণা এখানে পুরানো হাট বসতো। নদীর বাঁকে অবস্থিত বলে এ হাটের নাম হয়েছিল বাঁকের হাট। পরে তা বাগেরহাট-এ পরিণত হয়।
অনুমান করা যায়, এর আদি নাম মাধবগঞ্জ ছিল।
তবে নামকরণ যে কারণেই হোক এখানকার বাগানই মূলত আমাকে টেনেছে। সবচেয়ে বেশি টেনেছে বন্ধু Madhobi Lata সবসময় বৃক্ষকথা গ্রুপে ওখানকার অনেক অচেনা অজানা ফুল বা গাছের ছবি পোস্ট করতো, কাছ থেকে দেখার জন্যই আসলে এভাবে যাওয়া।
হ্যাঁ ওখানে সবার বাড়ি বিশাল বিশাল জায়গা জুড়ে...নারিকেল আর সুপারি সারি সারি , এরই ফাঁকে ফাঁকে ঢাকায় যে গাছগুলো বিলুপ্তপ্রায় মনে করেছিলাম সেই আকরকাঁটা, মুচকুন্দ চাঁপা ওখানে প্রচুর আছে দেখলাম। এছাড়া পানের বরজ, আমরুল শাক, মান্দার গাছ, জিকা বা জিগা গাছ প্রচুর আছে। হাইওয়েতে দেখলাম বাবলা, মিনজিরি,কড়াই গাছের সারি।
সাধারণত বাড়ির বাউন্ডারিতে হেজ হিসেবে জিকা, বাসক, আকরকাঁটা বেশি ব্যবহৃত হয় ।
অতিথি আপ্যায়নে এদের জুড়ি মেলা ভার....তাদের নিজস্ব খাবারের মধ্যে চিংড়ি-নারিকেল, ডিম-নারিকেল আর মজাদার পিঠা হলো সেমাইপিঠা, যা ওখানে বলা হয় সেয়াই পিঠা। আসলে এই পিঠা খেতে হয় ঝাল মাংসের ঝোলের সাথে। বন্ধু মাধবী খুব যত্ন করে সেই পিঠা ৩/৪ ঘন্টা খাটুনি করে বানিয়ে খাওয়ালো।
বাগেরহাটের বাইরে থাকা বন্ধু Badal Alam ভাইও আমাকে তাদের এলাকা দেখানোর জন্য অনেক ব্যস্ততার মাঝেও ছুটে এসেছেন, বন্ধু Rafiqul Alam ভাইও অনেকটা সময় আমাদের নিয়ে ঘুরে দেখিয়েছেন। আর Swapon Bosu দাদা তো শুরুতেই হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে আমায় নিরাপত্তা দিয়েছেন। আর আড্ডা দেয়ার জন্য বন্ধু শাওনও অনেকটা সময় দিয়েছে।
সবার আন্তরিক সহযোগিতায় আমার একা চলা সার্থক হলো। অশেষ ধন্যবাদ সকল বন্ধুকে...
ছোটবেলা থেকে মানুষকে নির্মমভাবে মারার যে কৌশল এ সমাজে শেখানো হচ্ছে তা অবিলম্বে বন্ধ না করলে এই দেশ একদিন আবার ফিরে যাবে আদিমযুগে, এ আমি হলফ করে বলতে পারি, নৈতিকতা এখন মানুষের নিজের ভেতরেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে........আবারো মনের ভেতর কষ্টের একটা ক্ষত তৈরি হলো, অভিজিতের মৃত্যুর ক্ষতটা এখনো জ্বলজ্বল করছে যার প্রভাব শরীরেও ভয়ানকভাবে আক্রমন করেছে। ভাল নেই দেশ, এভাবে ভাল থাকা যায় না...স্বাধীনতাহীনতায় কিভাবে বাঁচবো?
আজ খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য খুব কষ্টের একটা দিন...এই দিনে তাদের ধর্মগুরু যীশুখ্রীষ্টকে মেরে ফেলা হয়....
তার মানে এখানেও সেই ধর্মের যুদ্ধ
যীশু তার নতুন মত প্রচার করছিলেন যা সে সময়ের কিছু মানুষ মেনে নিতে পারেন নি, মেরে ফেললো প্রকাশ্যে।
এভাবেই সময়ের সাথে সাথে জ্ঞানী ও যুক্তিবাদি মানুষ কিছু ভ্রান্ত মতবাদ পরিবর্তন করতে চেয়েছে আর তখন তার কিছু অনুসারী তৈরি হয়েছে। পূর্বের কিছু অনুসারী সেটা মেনে নেয়নি, যুদ্ধ করেছে এবং সেগুলো এখনো অব্যাহত আছে...তাই এখন এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন অনুসারী...যারা এখনো নিজের মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে অমানুষের মত পশুবৃত্তির বশে খুনাখুনি করে যাচ্ছে...এখানে ঈশ্বর কোথায়? উনিই কি তবে চাচ্ছেন এভাবে সবাই তাকে ভাগাভাগি করুক?
যারা এসব নিয়ে উন্মুক্ত দৃষ্টিতে চিন্তাভাবনা করে তারা বুঝে গেছে সারমর্ম...ঝেড়ে ফেলেছে সব ধর্মীয় মতবাদ।
সবচেয়ে বড় কথা সময়ের সাথে সাথে মানুষের জ্ঞানবুদ্ধি, চিন্তা-চেতনার বিকাশ না হলেই এমন হয়।
প্রখ্যাত চিত্রপরিচালক ও ক্যামেরাম্যান বেবী ইসলামের আজ ৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী।
অনেকটা সময় আজ বনানী কবরস্থানে কাটালাম, প্রায় ২ঘন্টা। আমার মত বিধর্মী নিরীশ্বরবাদী কবরস্থানে ঘুরতে ঘুরতে একটি বিষয় আবিস্কার করলাম, মৃতদেহকে কেন্দ্র করে এই যে বিশাল স্থান সংরক্ষিত সেটা এই দরীদ্র জনবহুল দেশে আসলে কতটা ন্যায্য? পাশাপাশি অবশ্য পজিটিভ চিন্তাও করলাম এতে অবশ্য কিছুটা জায়গা খালি পাওয়া যায়, যাতে গাছপালা লাগানো হয়। এতে অনেক পাখি ও প্রানীর অভয়ারন্য হয়।
যাক যা বলছিলাম, বেবী ইসলাম আমার দেখা মহান মানুষদের মধ্যে একজন.....কোন কৃত্রিমতা তার ভেতর কখনো দেখিনি। রাগ-ক্ষোভ কখনো প্রয়োজনেই দেখাতেন, সত্যিকথা বলতে কখনো ভয় পেতেন না।
জীবনের শেষ সময়ে বাসাভাড়া বাবদ যে টাকা পেতেন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হওয়ায় সেটা ব্যাংক ব্যালান্স না করে মায়ের নামে তার পিতৃভূমিতে একটা দাতব্য চিকিৎসালয় শুরু করেন। উদ্দেশ্য দরীদ্র গভর্বতী মায়েরা যেন সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়।
এই মহান ব্যক্তির সৃষ্ট হাসপাতালটা যেন তার মৃত্যুর পরেও চলে এ কারনে উনি লালমাটিয়ার ১১ কাঠা জায়গা ৪তলা বাড়ি সহ বিক্রি করে যান। যদিও বিক্রিলব্ধ সব টাকা তার স্ত্রী তন্দ্রা ইসলাম এখনো পান নি। ড্যাফোডিল কলেজ তার এই সম্পত্তি ক্রয় করে।

বেবী দাদা আমার কাছে একজন সৎ ও মানবিক মানুষ....শ্রদ্ধাঞ্জলি তার উদ্দেশ্যে সবসময়
তুমি তো জান
বৃষ্টি খেলা করে হৃদয় নিয়ে ঘোর বর্ষায়
উদ্বেলিত হয়ে ওঠে বুভুক্ষু মন
ফিরে আসে সুখস্মৃতি...
গেয়ে ওঠে প্রান
বৃষ্টিকে আলিঙ্গন করি
একাকি হাঁটছিলাম
দীর্ঘ পথ বর্ষাতি গায়ে
সন্ধ্যার আঁধারে ছেয়ে গেল দিন
নেমেছে আঁধার করে
বিমর্ষ সূয্যি মামা
সবচেয়ে বড় কথা
বৃক্ষপরিবারে লেগেছে
আনন্দ-অভিসার
সাজ সাজ রব
দীর্ঘদিনের কালিমা
ধুয়ে মুছে নির্মল
বুড়ো-বাচ্চা সব..