বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৫

আজিমপুর,বনানী বা নানান কবরে
কিম্বা শ্বশানে..........
যেখানে অবাঞ্চিত মৃতদেহের সৎকার
নইলে সেগুলো একসময় গন্ধ ছড়িয়ে
পরিবেশ দূষিত করবে
আমরা তাকে ধর্মানুসারে নাম দেই
তাকে নানান সুরা, প্রার্থনা আর মন্ত্র পড়ে
জীবনের খেলাঘর থেকে দূর করি
আসলে মরে গেলে সে শুধুই লাশ
অবাঞ্চিতের দলে
মানুষ থাকে প্রিয়জনের হৃদয়ে

আর রাজনীতিকের লাশ হয়
নেতাদের আন্দোলনের হাতিয়ার
কতিপয় জনগনের সস্তা সেন্টিমেন্টকে
উসকে দিয়ে...
আসলে দেশকে অচল করা
দূর্জন মরলে দেশ বাঁচে
কোনই অবদান নেই এ দেশের জন্য
আসলে তার কি কোন প্রয়োজন?
এই হলো বাংলাদেশি নারীদের ক্রম-অবস্থান....আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম??? নারী শিক্ষিত আর কর্মজীবী হলেই যে নারীমুক্তি ও স্বাধীনতা পাচ্ছে এটা কি আসলে ঠিক...না । বরং তাদের আবার ইসলামী দাওয়াত নামে ধর্মীও মতবাদ চাপিয়ে দিয়ে পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে অনেকটা পথ । ৮০ সালে বাসে ১০/২০% বোরখা পড়তো আর এখন ৮০ % ...কারণ কি বুঝতে পারছেন না?
"মা গো আমায় দেখাসনে আর জুজু বুড়ির ভয়,
আজকাল আর আমি তোমার ছোট্ট খোকা নই।"
হ্যাঁ সেই বোধ ছোট্টবেলায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল পরিবার থেকে তারপর প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে স্কুল থেকে...স্বপ্ন দেখতাম একসময় আমি ঘুরে বেড়াবো সারা বিশ্বে। কিন্তু বড় হতে হতে ইচ্ছেগুলো কেমন যেন অনুশাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে শুরু হলো পরিবারেই.....আসলে সমস্যাটা হলো নারী বলেই। তার মানে ছোটবেলার শিক্ষাগুলো একান্তই পুরুষের জন্য, নারীদের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ন নয়। নারী জীবনের প্রতিপদেই বাঁধা....বয়স হলে ভালবাসা, দায়িত্ব-কর্তব্যের নামেও তাকে একা ছাড়া হয় না।
সেই জুজুবুড়ির ভয়টাকে অতিক্রম করতেই এবার একাই একদিন বেরিয়ে পড়লাম বাড়ির পাশে বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে। একা হলেও আগেই সেখানকার বৃক্ষবন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করে নিয়েছিলাম, থাকার ব্যবস্থাও আগেই করে নিয়েছিলাম...যাযাবর হতে এখনো দ্বিধা আছে মনে হয় !!
তবে বাগেরহাটে যাবার আগে এর কিছুটা জানার জন্যই পড়লাম।
বিভিন্ন মতবাদ আছে এর নামকরণের :
বাখরগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা আগা বাকেরের নামানুসারে এই স্থানের বা হাটের নামকরণ করা হয়েছিল বাকেরহাট। কালক্রমে তা বাগেরহাট-এ পরিণত হয়।
প্রচুর গাছের সূত্রে এই স্থানকে বাগান অর্থে বাগেরহাট নামকরণ করা হয়েছিল।
সুন্দরবনের বাঘ থেকে বাঘেরহাট হয়, পরে তা লোকমুখে বাগেরহাট-নামে পরিণত হয়।
ভৈরব নদী কচুয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় যে স্থান বাঁক নিয়েছে, তার বিপরীত দিকে রয়েছে প্রাচীন নাগেরবাজার। অনেকের ধারণা এখানে পুরানো হাট বসতো। নদীর বাঁকে অবস্থিত বলে এ হাটের নাম হয়েছিল বাঁকের হাট। পরে তা বাগেরহাট-এ পরিণত হয়।
অনুমান করা যায়, এর আদি নাম মাধবগঞ্জ ছিল।
তবে নামকরণ যে কারণেই হোক এখানকার বাগানই মূলত আমাকে টেনেছে। সবচেয়ে বেশি টেনেছে বন্ধু Madhobi Lata সবসময় বৃক্ষকথা গ্রুপে ওখানকার অনেক অচেনা অজানা ফুল বা গাছের ছবি পোস্ট করতো, কাছ থেকে দেখার জন্যই আসলে এভাবে যাওয়া।
হ্যাঁ ওখানে সবার বাড়ি বিশাল বিশাল জায়গা জুড়ে...নারিকেল আর সুপারি সারি সারি , এরই ফাঁকে ফাঁকে ঢাকায় যে গাছগুলো বিলুপ্তপ্রায় মনে করেছিলাম সেই আকরকাঁটা, মুচকুন্দ চাঁপা ওখানে প্রচুর আছে দেখলাম। এছাড়া পানের বরজ, আমরুল শাক, মান্দার গাছ, জিকা বা জিগা গাছ প্রচুর আছে। হাইওয়েতে দেখলাম বাবলা, মিনজিরি,কড়াই গাছের সারি।
সাধারণত বাড়ির বাউন্ডারিতে হেজ হিসেবে জিকা, বাসক, আকরকাঁটা বেশি ব্যবহৃত হয় ।
অতিথি আপ্যায়নে এদের জুড়ি মেলা ভার....তাদের নিজস্ব খাবারের মধ্যে চিংড়ি-নারিকেল, ডিম-নারিকেল আর মজাদার পিঠা হলো সেমাইপিঠা, যা ওখানে বলা হয় সেয়াই পিঠা। আসলে এই পিঠা খেতে হয় ঝাল মাংসের ঝোলের সাথে। বন্ধু মাধবী খুব যত্ন করে সেই পিঠা ৩/৪ ঘন্টা খাটুনি করে বানিয়ে খাওয়ালো।
বাগেরহাটের বাইরে থাকা বন্ধু Badal Alam ভাইও আমাকে তাদের এলাকা দেখানোর জন্য অনেক ব্যস্ততার মাঝেও ছুটে এসেছেন, বন্ধু Rafiqul Alam ভাইও অনেকটা সময় আমাদের নিয়ে ঘুরে দেখিয়েছেন। আর Swapon Bosu দাদা তো শুরুতেই হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে আমায় নিরাপত্তা দিয়েছেন। আর আড্ডা দেয়ার জন্য বন্ধু শাওনও অনেকটা সময় দিয়েছে।
সবার আন্তরিক সহযোগিতায় আমার একা চলা সার্থক হলো। অশেষ ধন্যবাদ সকল বন্ধুকে...
ছোটবেলা থেকে মানুষকে নির্মমভাবে মারার যে কৌশল এ সমাজে শেখানো হচ্ছে তা অবিলম্বে বন্ধ না করলে এই দেশ একদিন আবার ফিরে যাবে আদিমযুগে, এ আমি হলফ করে বলতে পারি, নৈতিকতা এখন মানুষের নিজের ভেতরেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে........আবারো মনের ভেতর কষ্টের একটা ক্ষত তৈরি হলো, অভিজিতের মৃত্যুর ক্ষতটা এখনো জ্বলজ্বল করছে যার প্রভাব শরীরেও ভয়ানকভাবে আক্রমন করেছে। ভাল নেই দেশ, এভাবে ভাল থাকা যায় না...স্বাধীনতাহীনতায় কিভাবে বাঁচবো?
আজ খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য খুব কষ্টের একটা দিন...এই দিনে তাদের ধর্মগুরু যীশুখ্রীষ্টকে মেরে ফেলা হয়....
তার মানে এখানেও সেই ধর্মের যুদ্ধ
যীশু তার নতুন মত প্রচার করছিলেন যা সে সময়ের কিছু মানুষ মেনে নিতে পারেন নি, মেরে ফেললো প্রকাশ্যে।
এভাবেই সময়ের সাথে সাথে জ্ঞানী ও যুক্তিবাদি মানুষ কিছু ভ্রান্ত মতবাদ পরিবর্তন করতে চেয়েছে আর তখন তার কিছু অনুসারী তৈরি হয়েছে। পূর্বের কিছু অনুসারী সেটা মেনে নেয়নি, যুদ্ধ করেছে এবং সেগুলো এখনো অব্যাহত আছে...তাই এখন এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন অনুসারী...যারা এখনো নিজের মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে অমানুষের মত পশুবৃত্তির বশে খুনাখুনি করে যাচ্ছে...এখানে ঈশ্বর কোথায়? উনিই কি তবে চাচ্ছেন এভাবে সবাই তাকে ভাগাভাগি করুক?
যারা এসব নিয়ে উন্মুক্ত দৃষ্টিতে চিন্তাভাবনা করে তারা বুঝে গেছে সারমর্ম...ঝেড়ে ফেলেছে সব ধর্মীয় মতবাদ।
সবচেয়ে বড় কথা সময়ের সাথে সাথে মানুষের জ্ঞানবুদ্ধি, চিন্তা-চেতনার বিকাশ না হলেই এমন হয়।
প্রখ্যাত চিত্রপরিচালক ও ক্যামেরাম্যান বেবী ইসলামের আজ ৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী।
অনেকটা সময় আজ বনানী কবরস্থানে কাটালাম, প্রায় ২ঘন্টা। আমার মত বিধর্মী নিরীশ্বরবাদী কবরস্থানে ঘুরতে ঘুরতে একটি বিষয় আবিস্কার করলাম, মৃতদেহকে কেন্দ্র করে এই যে বিশাল স্থান সংরক্ষিত সেটা এই দরীদ্র জনবহুল দেশে আসলে কতটা ন্যায্য? পাশাপাশি অবশ্য পজিটিভ চিন্তাও করলাম এতে অবশ্য কিছুটা জায়গা খালি পাওয়া যায়, যাতে গাছপালা লাগানো হয়। এতে অনেক পাখি ও প্রানীর অভয়ারন্য হয়।
যাক যা বলছিলাম, বেবী ইসলাম আমার দেখা মহান মানুষদের মধ্যে একজন.....কোন কৃত্রিমতা তার ভেতর কখনো দেখিনি। রাগ-ক্ষোভ কখনো প্রয়োজনেই দেখাতেন, সত্যিকথা বলতে কখনো ভয় পেতেন না।
জীবনের শেষ সময়ে বাসাভাড়া বাবদ যে টাকা পেতেন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হওয়ায় সেটা ব্যাংক ব্যালান্স না করে মায়ের নামে তার পিতৃভূমিতে একটা দাতব্য চিকিৎসালয় শুরু করেন। উদ্দেশ্য দরীদ্র গভর্বতী মায়েরা যেন সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়।
এই মহান ব্যক্তির সৃষ্ট হাসপাতালটা যেন তার মৃত্যুর পরেও চলে এ কারনে উনি লালমাটিয়ার ১১ কাঠা জায়গা ৪তলা বাড়ি সহ বিক্রি করে যান। যদিও বিক্রিলব্ধ সব টাকা তার স্ত্রী তন্দ্রা ইসলাম এখনো পান নি। ড্যাফোডিল কলেজ তার এই সম্পত্তি ক্রয় করে।

বেবী দাদা আমার কাছে একজন সৎ ও মানবিক মানুষ....শ্রদ্ধাঞ্জলি তার উদ্দেশ্যে সবসময়
তুমি তো জান
বৃষ্টি খেলা করে হৃদয় নিয়ে ঘোর বর্ষায়
উদ্বেলিত হয়ে ওঠে বুভুক্ষু মন
ফিরে আসে সুখস্মৃতি...
গেয়ে ওঠে প্রান
বৃষ্টিকে আলিঙ্গন করি
একাকি হাঁটছিলাম
দীর্ঘ পথ বর্ষাতি গায়ে
সন্ধ্যার আঁধারে ছেয়ে গেল দিন
নেমেছে আঁধার করে
বিমর্ষ সূয্যি মামা
সবচেয়ে বড় কথা
বৃক্ষপরিবারে লেগেছে
আনন্দ-অভিসার
সাজ সাজ রব
দীর্ঘদিনের কালিমা
ধুয়ে মুছে নির্মল
বুড়ো-বাচ্চা সব..
পথ বরাবর টেনে নিয়ে যায় সবুজ হাতছানিতে
শহরের অহেতুক ব্যস্ততা, রূদ্ধশ্বাসে ছোটাছুটি
দম বন্ধ করা জীবনযাপন
ভাবি এ কারণেই কি মানুষ জীবন?
নিজের তৈরি করা এই পথে
মানুষই এখন যন্ত্রজীবন
নেই সময় খোলা আকাশে দাড়িয়ে
মুগ্ধ চোখে নীলাকাশ, চাঁদ আর সবুজ দেখার
সুন্দরী কলকাতা কখনো দেখা হয়নি
ময়লার আস্তরণে আবৃত শহরই মানস পটে
বর্ষায় দেখেছি তার অন্য এক রূপ
যৌবনা সুন্দরি অত্যুক্তি মোটেও নয়
বৃষ্টিস্নাত বৃক্ষপরিবার কি উদারতায়
আহবান জানায় ছেলে বুড়ো সকলেরে
আষাঢ়ের বৃষ্টিতে হুগলিতে বেড়াতে গেলাম কলকাতা থেকে। কিভাবে যেতে হবে খুব সুন্দর করে
বলে দিলেন প্রদীপদা আর কমলদা। সুতরাং আমার সমস্যা হবার কথা নয়, তবুও পণ্ডিতি করে
একটা ট্যাক্সি নিলাম হাওড়ার উদ্দেশ্যে..দেখি পথ আর শেষ হয় না। হাওড়ার ব্রিজটা আসলে দেখার মত।
হাওড়ার রেল স্টেশনে কাউন্টার খুঁজে একটা ব্যান্ডেল হগলির টিকেট কাটলাম, বললো দৌড়ে যান ট্রেনটা ছেড়ে যাবে ৪ নম্বর থেকে। এখন আমি হলাম নবাগত, ৪ নং প্ল্যাটফরম খুজে পেতেই ট্রেন ছেড়ে দিল, ট্রেন মিস করলাম। পরের ট্রেন কখন আসবে জানার জন্য যাকেই জিজ্ঞাসা করি কেউই বলার সময় পাচ্ছে না। এতোই ব্যস্ততা সবার ওখানে, বিশেষ করে চাকুরীজীবীরা ওখানে খুবই ব্যতিব্যস্ত...মৌমাছির ঝাকের মত শুধুই উড়ছে।
তা ছাড়া কুলি, সুইপার ওরাও কোন সহযোগিতা করছে না। পড়লাম ভীষণ বিপদে, এক দোকানদারের কাছে জানতে চাইলাম , উনি বললেন ওই যে মাইকে বলছে আপনি শুনুন।
যাক অপশেষে জানতে পারলাম পরের ট্রেন আসবে ৫ নম্বরে...আমি ৫ নম্বরের কাছে দাঁড়িয়ে ভাবছি কোন লাইনে আসবে? ২টা লাইন আছে। পানি কিনতে হবে, যাব কিনা ভাবছি...গেলে যদি ট্রেন মিস করি ভাবতেই হুস করে ট্রেন চলে এলো.....গাদা গাদা মানুষ নামলো আগের মতই ....হাজারে হাজারে।
যাক একটা খালি কম্পার্টমেন্টে উঠৈ পড়লাম জানালার কাছে। পরপর দেখালাম পুরো ট্রেনই ভরে গেল নিমেষে, এবং হুইসেল দিয়ে ট্রেন ছেড়ে দিল।
বিভিন্ন হকার নানান জিনিষ বিক্রি করছে, একজনের কাছ থেকে মিষ্টি বাদাম কিনলাম। সামনের সহযাত্রী ঝালছোলা কিনলো দুজনেই খাচ্ছি, ভাবলাম পানি পিপাসা পেলে উপায় নেই। সামনের লোক ব্যাগ থেকে পানি বের করে খেলেন, আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন খাবেন? আমি হেসে দিলাম এবং খেলাম। উনি জানতে চাইলেন কোথায় যাব, কোত্থেকে এসেছি। কথা প্রসঙ্গে জানলাম উনি দিল্লির মানুষ, ব্যবসায়ী। বাংলাদেশে যাবার খুব ইচ্ছা আছে ব্যবসার জন্য।
যাক প্রায় ২ ঘন্টার পর হুগলিতে নামলাম, দেখলাম খুব একটা যাত্রী সেখানে নামে নি। এক দোকানে দাঁড়িয়ে চা খেলাম, ২০ টাকা কেজি আম্রপালি আম দেখে কিনে ফেললাম...আসলে আম আমার খুবই পছন্দের ফল। ওপার থেকে ওভারব্রিজে এপাড়ে এলাম , কমলদার কথামতো একটা রিক্সা নিয়ে তার দেয়া ঠিকানায় পৌঁছে গেলাম নির্বিঘ্নেই। দেখলাম একরাশ উষ্ণতা নিয়ে দাদা -বৌদি অপেক্ষা করছেন।
২৪ থেকে ২৬ তারিখ দাদার ওখানে ছিলাম, একবারও মনে হয় নি আমি ফেসবুকের কোন অচেনা মানুষের বাসায় আছি...কোথায় যেন একটা আত্মীয়তার সূত্র আমাদের ভেতর কাজ করে....মূল সুর হলো আমরা বাঙ্গালী, আর কমলদা বা বৌদির পূর্বসুরীরা একসময় এদেশ ছেড়ে ওদেশে যেতে বাধ্য হয়েছেন রাষ্ট্র/ধর্ম নামক এই গোলকধাঁধার চোরাবালিতে। যা আজো তাদের ভেতর কাজ করে, আজো বাংলাদেশি কাউকে দেখলে তাদের ভেতর গভীর এক মমত্ব কাজ করে। কত কিছুই না ওনারা আমাকে খাইয়েছেন...সেটা আর নাই বললাম। যদিও বাংলাদেশিদের ভেতর ধারনা কলকাতার মানুষ খুব হিসেবি, আমার কিন্তু তা কখনোই মনে হয়নি। প্রদীপদা আমি ওদেশে গেলে যা করেন তা বাংলাদেশি কেউই তেমন করেন না, কমলদার আতিথেয়তাও সত্যি দেখার মতন, আমি আপ্লুত তাদের ভালবাসায়।
ঐতিহাসিক ব্যান্ডেল চার্চ দেখাতে নিয়ে গেলেন , চুচূড়া যেতে পথে দেখলাম আরেকটা ঐতিহাসিক হাসপাতাল, সময়াভাবে সেখানে ঢুকতে পারলাম না। বৃষ্টি কিন্তু সারাদিনই টিপটিপ করে ঝরছিল...কিন্তু বেড়ানো তার জন্য বন্ধ হয়নি আমাদের। চুচুড়া মার্কেটে জিনিষপত্রের দাম দেখলাম কলকাতার চেয়ে অনেক সস্তা ও কোয়ালিটির।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে বিষয়গুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে তা হলো...তাদের অকৃত্রিম ভালবাসা। উন্নত ও সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা, ভাড়াও কম , গ্যাসের সিলিণ্ডার অনেক সস্তা, মাছ বা মাংস চয়েস করে টাটকা কেটে কেনা যায় , তাতে নিজের আয়ত্বের ভেতরেই কেনা যায়। যা আমাদের ইচ্ছা থাকলেও কিনতে পারি না শুধু এই সিস্টেমের অভাবে।
আমরা কতগুলো বিষয় কত সহজেই বলি বা বিশ্বাস করি...এর পেছনে কোন যুক্তি আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই না করেই।
যেমন এক বন্ধু কত সহজ বিশ্বাসে বলে ফেললো, " কদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে রথযাত্রার কারণে, প্রতিবারই রথযাত্রার সময় এমন বৃষ্টি হয়।" আবার রোজার সময় বৃষ্টি হওয়ায় রোজদার ব্যক্তির ভাষ্য হয় " আল্লাহ আমাদের জন্যই বৃষ্টি দিয়েছে এই সময়। "আবার যদি বৃষ্টি না থাকে প্রচণ্ড গরমে রোজদার ব্যক্তির ভাষ্য হয় "আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করে দেখছেন।" আসলে সবকিছুতে প্রাকৃতিক বিষয়গুলোও আমরা কত সহজে বিনাযুক্তিতেই ধর্মের সাথে সংযুক্ত করে ফেলি কারণ এটা শুনে আসছি আশৈশব, আর প্রশ্নহীন নির্দ্বিধায় সব আত্মস্ত করে ফেলি।
আমাদের আসলে যুক্তিহীন এই বিশ্বাসে আঘাত করতে হবে সমূলে নইলে এরা বিজ্ঞানমনষ্ক কখনই হবে না , কিন্তু বিজ্ঞানের সব সুযোগসুবিধা ভোগ করবে আর বলবে এগুলোও সব আল্লাহর/ ঈশ্বরের নির্দেশেই আমরা পেয়েছি।
পরিবর্তণের ঘন্টাধ্বনি
কারখানায় বেজেছে ঘন্টাধ্বনি
পালাবদলের কারিগর হাজির
ক্লান্ত ঘর্মাক্ত শ্রমিক
অবসন্ন দেহে বেরিয়ে পড়ে
চোখে তার ধোঁয়া ওঠা ভাতের চেয়েও
জীর্ণ-শীর্ণ বিছানা ডাকে আয় আয়

মালিক চায় নব উদ্যোম
নবীন উচ্ছল তারুন্য
পুরাতণ, অবশ আনে না জোয়ার
নতুন চিরদিনই কাম্য সকলের
কবির খাতায় উঠে আসে
উদ্বেলিত ফেনায় যৌবন
সব ক্ষেত্রেই অবহেলিত প্রবীন
চিরন্তণ সত্য মেনে নেয় যে জন
আধুনিক, বুদ্ধিমান সেই জন
তাকে নমস্য শতবার !!
বিজ্ঞান জয়ী হচ্ছে , হারিয়ে যাচ্ছে বেদে পেশা শিঙ্গা, ঝাকফুক, লতা-পাতার ঔষধ তাবিজ-কবজ :
আদিকাল থেকে বেদে নারীরা চুড়ি-ফিতা-খেলনা বিক্রি, শিঙ্গা লাগানো, দাঁতের পোকা তোলা, তাবিজ-কবজ বিক্রি, সাপেকাটা রোগীর চিকিৎসা, সাপের খেলা দেখানো, সাপের ব্যবসা করা, আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য সেবাদান, ভেষজ ওষুধ বিক্রি, মৃত পশুর শরীরের অংশ এবং গাছ-গাছড়ার ওষুধ তৈরি করে বিক্রি, বানরখেলা ও জাদু দেখানো, মাছ ধরা, পাখি শিকার ইত্যাদি হরেক উপায়ে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতেন।
এখন মানুষ সচেতন হচ্ছে, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় চিকিৎসাব্যবস্থা এখন উন্নত হয়েছে । মানুষ জানতে পারছে এইসব তুকতাক ভড়ং -এ মানুষের সত্যিকারে কোন উপকার হয় না বরং বেশি দেরি হলে ক্ষতিই হয়ে যায়, বরং হিতে বিপরিতও হতে পারে। যেমন ওরা এই সিঙ্গার ভেতর দিয়ে যে ফ্লুয়িডটা আক্রান্ত অংশে পাঠায় সেটা মুখের নিঃসৃত পানের পিক বা থুথু, সেটাই আবার টেনে নেয় ভেতরে। তারপর বুঝাতে চায় অনেক বাতের রস বের হয়েছে শরীর থেকে ...এভাবেই মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে সুপ্রাচীনকাল থেকে এই ব্যবসা ওরা টিকিয়ে রেখেছিল বাঁচার সংগ্রামে।
এখন আর তা পারে না, ওরা এখন আরো হতদরীদ্র হয়ে পড়েছে, জনগন এগুলো করতে না চাইলে, তারা রীতিমত ভিক্ষাবৃত্তি করে পেটের তাগিদে।
বান্ধবী রওনাক প্রায় ১৬ বছর ধরে স্বামীকে ধরে-বেঁধে মানুষ করার জন্য আজ এ হুজুরের কাছে, কাল ওমুক সাধুর কাছে ছুটাছুটি করে। ঘর-সংসারের কাজের পরেই সে এ কাজগুলো করে, তাই যখনই ফোন করি শুনি ও এখন ওমুক জায়গায় আছে। জিজ্ঞাসা করলাম এইবার আবার কি সমস্যা? বললো শ্বাশুড়ী আর মামা শ্বশুর ওর স্বামীর কাছ থেকে সব টাকা, জমি-জমা নিয়ে যাবার মতলবে স্বামীকে তাবিজ করেছে। আমি বললাম তাহলে এখন উপায়? সে বললো এই তাবিজ কাটার জন্য কোরান শরীফেই একটা সুরা আছে যা উল্টা করে লিখলে সেটা উল্টো হয়ে স্বামীর উপর থেকে তাদের দিকে ধাবিত হবে, একে বলে কুফরী কালাম। বললাম তখন কি তারা উল্টা তোমাদের নামে সব লিখে দেবে? তখন তার উত্তর হলো না আমার স্বামীর ফাঁড়া কেটে যাবে।
এটা এই সমাজে কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। হিন্দু-খ্রীষ্টান সব মানুষই বিশেষ করে মেয়েরাই এইভাবে তাবিজ-কবজ-যাদু-টোনা-বান এগুলো বিশ্বাস করে এবং অনেক পুরুষও এগুলোতে বিশ্বাস করে। তবে মেয়েরা বেশিরভাগ সময় স্বামীকে বশিকরণ করার জন্যই এই ভণ্ড সাধু-পীর-ফকিরের স্মরনাপন্ন হয় আর তারা এই সুযোগটাকে আরো বেশি কঠিন কঠিন কথা বলে বিশ্বাসযোগ্য করে দেয় রোগীর মনে। সে এতই আপ্লুত হয় যে তখন হুজুর-পীর-সাধু যাই দাম হাকে তাও দিতে কার্পন্য করে না। হ্যাঁ এরা সবাই আসলে একধরণের দূর্বল মনের মানুষ তাই এই অবিশ্বাস, সন্দেহ বিভিন্ন কিছু তাদের ভেতরে এমন ভাবে দূর্বল করে মানসিক রোগী করে ফেলে...এবং এরা কখনই এধরণের কাজ থেকে বের হতে পারে না। আর এই হুজুর-পীর-সাধু ব্যবসা এ দেশ থেকে মুক্ত হতে পারে না, এরা এখনো জাকিয়ে বসে আছে সমাজে।
সাতাইশ নামে গাজীপুরে একটা গ্রাম আছে। যে গ্রামের এক বাড়িতে প্রায় সবকয়টা মেয়েকেই আমি এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখেছি। একসময় সে ঘর অন্ধকার করে সেই ঘরে ভয়ানকভাবে চিৎকার করে, কাঁপুনি দিতে থাকে কাঁথা গায়ে দিয়ে, কাপড়-চোপড় সব খুলে ফেলে। কখনো হাসতে থাকে । তখন বাড়ির সবাই খুবই আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। তাদের কাছে জানতে চাইলাম ঘটনা কি?
তাদের উত্তর "ওকে জ্বীনে ধরেছে"। বললাম আর কাউকে তো ধরে না, ওকে ধরেছে কেন? তাদের কথা হলো যারা আল্লাওয়ালা মানুষ তাদের সাথে জ্বীন ভাবসাব করে বেশি।
এখনো কোন কোন অঞ্চলে দেখা যায় মেয়েদের জ্বীনে ধরে, ভুতে ধরে কিন্তু গড়পড়তায় ছেলেদের তেমন ধরে না। আসলে এটা একটা রোগ, নাম হিস্টিরিয়া। মেয়েরা এই রোগে আক্রান্ত হয় বেশি কিন্তু ছেলেরা কম হয়।
কারণ কি?
আসলে এই ট্র্যাডিশনটা তাদের পরিবারের সব মেয়েদের ভেতরই দেখেছি। অবদমিত কাম-ক্ষোভ-রাগ-দুঃখ-কষ্ট থেকেই মানুষের ভেতর তৈরি হতে থাকে বিষাদ বা হতাশা। আর সেখান থেকেই মানসিক এই রোগের উৎপত্তি।
নাজমা খালাকে বিয়ের পরেও দেখেছি সবাইকে বলতো তার সাথে জ্বীন আছে, মাঝে মাঝে সে এসে তার উপর ভর করে। তখন খালা কাপড়-চোপড় সব খুলে উলঙ্গ হয়ে যায়। তার স্বামী-বাচ্চারা তখন দরজা-জানালা বন্ধ করে তাকে আটকে রাখে একটা রুমে। একসময় টায়ার্ড হয়ে সে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠলে তাকে স্বাভাবিক লাগে। আসলে বিয়ের পরও নাজমা খালা স্বামীকে দিয়ে শারিরিক সুখী হতে পারেনি, তার অবদমিত কাম থেকে মানসিক যে অসামঞ্জস্যতা তৈরি হয়েছে তাই মাঝে মাঝে প্রকট রূপ ধারণ করে।
যারা ঈশ্বর, আল্লাহ, ভগবান বিশ্বাস করে তারা জ্বীন, মন্দ আত্মা, ভুত বিশ্বাস করতে বাধ্য কারণ তাদের ধর্মগ্রন্থেই এই বিষয়গুলোর উল্লেখ আছে।
প্রশ্ন হলো এই বিষয়গুলো বিজ্ঞানের এই আধুনিক যুগে প্রমানিত হয়ে গেছে যে কি কি কারণে মানুষ এই রোগগুলোতে আক্রান্ত হয়...জ্বীনে-ভুতে ধরা আসলে কি? এরপরেও কি এগুলো বিশ্বাস করা যায়? যদি না যায় তাহলে কি ধর্মগ্রন্থের এই বিষয়গুলো ভুল হয়ে যায় না?
মানুষ বা প্রানী কখনই একা চলতে পারে না, তাই তারা বন্ধু বানায়, গ্রুপ বানায়...সমাজবদ্ধভাবে বাস করে। আমরা কি গাছপালার ক্ষেত্রেও এমনটা অনেকসময় দেখি না? গাছের নীচে বীজ পড়ে গাছ জন্মায় এভাবে তারাও একটা কলোনী বানায়। হয়তো তারা একে-অপরের উপর নির্ভর করে না ? তবুও আমরা কি দেখি না সব গাছ কিন্তু সমানতালে বড় হয় না। তার মানে তাদের ভেতরও কিছুটা প্রতিযোগিতা-ঈর্ষা কাজ করে। এদের মধ্যেই অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম, আন্তরপ্রজাতিগত সংগ্রাম ও পরিবেশগত সংগ্রাম ঘটেই চলে, ফলে কিছু কিছু গাছপালা যুদ্ধে হেরে মৃত্যুও বরণ করে। কোন কোন গাছ খাদ্য তৈরি করতে না পেরে পুষ্টিহীনতায় মারা যায় বা দূর্বল আকৃতির হয়।
আবার কিছু কিছু গাছপালা আছে তারা কিন্তু অদ্ভুত রকমের কলোনি করে বেঁচে থাকে, সংগ্রাম করে না, কোনো বিবাদও না। এই উদ্ভিদগুলি পরস্পরকে দৃঢ়ভাবে প্রীতির বাধনে ধরে রাখে, কেউ কারো খাবার কেড়ে খায় না বা তৈরি করতে বাঁধারও সৃষ্টি করে না। অনেক সময় একসাথেই ঘুরে বেড়ায় গোটা কলোনি নিয়ে...হ্যাঁ এরা হলো কিছু জলজ উদ্ভিদ-ভলভক্স, ইউডোরিনা, পানডোরিনা, হাইড্রোডিকটিওন , পেডিঅ্যাসট্রাম।
এককোষী ভলভক্স গণের উদ্ভিদটি একটি সবুজ শৈবাল। এরা ডোবা, পুকুর, বিলে ভেসে বেড়ায়। এরা সবসময় ফাঁপা বলের মতো আকার ধারণ করে প্রজাতিভেদে ৫০০ থেকে ৬০০০০ ভলভক্স ঘুরে বেড়ায়। এদের সেই ফাঁপা বলের ভেতর শ্লেষ্মা বা মিউসিলেজ জাতীয় পদার্থ দিয়ে ভরা থাকে বলে তারা পরস্পর যুক্ত হয়ে কোষগুলির মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে। তারা একসঙ্গে কাজ ভাগ করে নেয়।
এ আমার দেশ
আনাচে কানাচে এর লুকোচুরি সুন্দরের পরশ
স্বপ্নের মতো ভেসে নেয় মেঘের ভেলায়
কখনো রোদের আল্পনায় সাজায় প্রকৃতি
ভালবাসি দেশ তুমি আছ বলে
জীবনের ষোলকলায় তোমার প্রয়োজন
সৃষ্টি-অসৃষ্টিতে, প্রেম-কাম-মোহে