বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৫

"মা গো আমায় দেখাসনে আর জুজু বুড়ির ভয়,
আজকাল আর আমি তোমার ছোট্ট খোকা নই।"
হ্যাঁ সেই বোধ ছোট্টবেলায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল পরিবার থেকে তারপর প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে স্কুল থেকে...স্বপ্ন দেখতাম একসময় আমি ঘুরে বেড়াবো সারা বিশ্বে। কিন্তু বড় হতে হতে ইচ্ছেগুলো কেমন যেন অনুশাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে শুরু হলো পরিবারেই.....আসলে সমস্যাটা হলো নারী বলেই। তার মানে ছোটবেলার শিক্ষাগুলো একান্তই পুরুষের জন্য, নারীদের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ন নয়। নারী জীবনের প্রতিপদেই বাঁধা....বয়স হলে ভালবাসা, দায়িত্ব-কর্তব্যের নামেও তাকে একা ছাড়া হয় না।
সেই জুজুবুড়ির ভয়টাকে অতিক্রম করতেই এবার একাই একদিন বেরিয়ে পড়লাম বাড়ির পাশে বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে। একা হলেও আগেই সেখানকার বৃক্ষবন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করে নিয়েছিলাম, থাকার ব্যবস্থাও আগেই করে নিয়েছিলাম...যাযাবর হতে এখনো দ্বিধা আছে মনে হয় !!
তবে বাগেরহাটে যাবার আগে এর কিছুটা জানার জন্যই পড়লাম।
বিভিন্ন মতবাদ আছে এর নামকরণের :
বাখরগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা আগা বাকেরের নামানুসারে এই স্থানের বা হাটের নামকরণ করা হয়েছিল বাকেরহাট। কালক্রমে তা বাগেরহাট-এ পরিণত হয়।
প্রচুর গাছের সূত্রে এই স্থানকে বাগান অর্থে বাগেরহাট নামকরণ করা হয়েছিল।
সুন্দরবনের বাঘ থেকে বাঘেরহাট হয়, পরে তা লোকমুখে বাগেরহাট-নামে পরিণত হয়।
ভৈরব নদী কচুয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় যে স্থান বাঁক নিয়েছে, তার বিপরীত দিকে রয়েছে প্রাচীন নাগেরবাজার। অনেকের ধারণা এখানে পুরানো হাট বসতো। নদীর বাঁকে অবস্থিত বলে এ হাটের নাম হয়েছিল বাঁকের হাট। পরে তা বাগেরহাট-এ পরিণত হয়।
অনুমান করা যায়, এর আদি নাম মাধবগঞ্জ ছিল।
তবে নামকরণ যে কারণেই হোক এখানকার বাগানই মূলত আমাকে টেনেছে। সবচেয়ে বেশি টেনেছে বন্ধু Madhobi Lata সবসময় বৃক্ষকথা গ্রুপে ওখানকার অনেক অচেনা অজানা ফুল বা গাছের ছবি পোস্ট করতো, কাছ থেকে দেখার জন্যই আসলে এভাবে যাওয়া।
হ্যাঁ ওখানে সবার বাড়ি বিশাল বিশাল জায়গা জুড়ে...নারিকেল আর সুপারি সারি সারি , এরই ফাঁকে ফাঁকে ঢাকায় যে গাছগুলো বিলুপ্তপ্রায় মনে করেছিলাম সেই আকরকাঁটা, মুচকুন্দ চাঁপা ওখানে প্রচুর আছে দেখলাম। এছাড়া পানের বরজ, আমরুল শাক, মান্দার গাছ, জিকা বা জিগা গাছ প্রচুর আছে। হাইওয়েতে দেখলাম বাবলা, মিনজিরি,কড়াই গাছের সারি।
সাধারণত বাড়ির বাউন্ডারিতে হেজ হিসেবে জিকা, বাসক, আকরকাঁটা বেশি ব্যবহৃত হয় ।
অতিথি আপ্যায়নে এদের জুড়ি মেলা ভার....তাদের নিজস্ব খাবারের মধ্যে চিংড়ি-নারিকেল, ডিম-নারিকেল আর মজাদার পিঠা হলো সেমাইপিঠা, যা ওখানে বলা হয় সেয়াই পিঠা। আসলে এই পিঠা খেতে হয় ঝাল মাংসের ঝোলের সাথে। বন্ধু মাধবী খুব যত্ন করে সেই পিঠা ৩/৪ ঘন্টা খাটুনি করে বানিয়ে খাওয়ালো।
বাগেরহাটের বাইরে থাকা বন্ধু Badal Alam ভাইও আমাকে তাদের এলাকা দেখানোর জন্য অনেক ব্যস্ততার মাঝেও ছুটে এসেছেন, বন্ধু Rafiqul Alam ভাইও অনেকটা সময় আমাদের নিয়ে ঘুরে দেখিয়েছেন। আর Swapon Bosu দাদা তো শুরুতেই হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে আমায় নিরাপত্তা দিয়েছেন। আর আড্ডা দেয়ার জন্য বন্ধু শাওনও অনেকটা সময় দিয়েছে।
সবার আন্তরিক সহযোগিতায় আমার একা চলা সার্থক হলো। অশেষ ধন্যবাদ সকল বন্ধুকে...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন